প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০২ মার্চ ২০২৬, ১০:১৫:০১ : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-এর খুনের পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল রবিবার ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালায়। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে বড় আকারের হামলা হয়।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে, তবে অস্ত্র না ফেললে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি ইরানের জনগণকে ‘সাহসী’ হয়ে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে এবং দেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার আহ্বান জানান।
ট্রাম্প জানান, ইজরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে চালানো এই সামরিক অভিযান প্রায় চার সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত এই অভিযানে ইতিমধ্যেই ইরানের বহু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি প্রায় ৪৮ জন শীর্ষ ইরানি নেতাকে খুন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলাগুলোর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাল্টা জবাবে ইরান ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে মিসাইল হামলা চালায়।
মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের পাল্টা হামলায় তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন—এই সংঘাতে এটিই প্রথম মার্কিন প্রাণহানি।
অন্যদিকে, ইজরায়েলের মধ্যাঞ্চলের শহর বেত শেমেশে একটি উপাসনালয়ে হামলায় ৯ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। এর ফলে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১। এখনও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একটি ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, "নিহত মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর বদলা নেওয়া হবে।" তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত শেষ হওয়ার আগে আরও প্রাণহানি ঘটতে পারে। নিহত সেনাদের তিনি “সত্যিকারের দেশপ্রেমিক” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।

No comments:
Post a Comment