প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫২:০১ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার রাতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (CCS)-এর বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন। মনে করা হচ্ছে, এই বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল-এর যৌথ হামলার পর ইরান-এর পরিস্থিতি এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পর উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্যই এই বৈঠক ডাকা হয়।
CCS দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সর্বোচ্চ সংস্থা। যদিও বৈঠকের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, সূত্র জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বৈঠকের নেতৃত্ব দেন।
রাজস্থান, গুজরাট, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি সফর শেষে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নয়াদিল্লিতে ফিরেই এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। শীর্ষ কর্মকর্তারা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ও তার ভারতের উপর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করেন।
বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল-সহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা, আটকে পড়া নাগরিকদের উদ্ধার এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে করণীয় নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার কারণে প্রায় পুরো আকাশপথই বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে দুবাইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বহু ভারতীয় আটকে পড়েছেন এবং তারা সরকারের সাহায্য চাইছেন।
সূত্র অনুযায়ী, ইরানে প্রায় ১০,০০০ এবং ইজরায়েলে ৪০,০০০-এর বেশি ভারতীয় বাস করেন। পুরো পশ্চিম এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয়দের সংখ্যা প্রায় ৯০ লক্ষ।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে থাকা ভারতীয় দূতাবাসগুলো নাগরিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং জরুরি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।
শনিবার থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল-এর যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সামরিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করা হয়। এর পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবী করেন, এই হামলা ইরানের জনগণের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে এই সামরিক অভিযান আরও কয়েকদিন চালানো হতে পারে।

No comments:
Post a Comment