প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১১ মার্চ ২০২৬, ১০:২৫:০১ : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যে কয়েকদিন আগে আমেরিকা ভারতের জন্য বড় একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তারা জানিয়েছিল, আগামী ৩০ দিনের জন্য ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে। এই বিষয়টি নিয়ে আবারও বক্তব্য দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট।
সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ক্যারোলিন লেভিট জানান, ভারত সবসময়ই তাদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। সেই কারণেই ভারতের জন্য অল্প সময়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। তবে এতে রাশিয়ার খুব বেশি লাভ হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। লেভিট বলেন, তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, আর সেই উদ্দেশ্যেই ভারতকে সাময়িকভাবে রাশিয়া থেকে তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ভারতকে একটি দায়িত্বশীল দেশ বলেও উল্লেখ করেন ক্যারোলিন লেভিট। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সবার সম্মতি পাওয়ার পরই ভারতের জন্য এই সাময়িক ছাড় অনুমোদন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও ভারত নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলোকে সম্মান করেছে। যখন ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল না কেনার জন্য বলা হয়েছিল, তখন ভারত তা মেনে নিয়েছিল। লেভিট জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে যে সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেটি সামাল দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তার কথায়, ইরানের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণ করতে কাজ করছে আমেরিকা। তাই সাময়িকভাবে ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আরও জানান, যে রাশিয়ান তেল ভারতের উদ্দেশ্যে আসছিল, তার বেশিরভাগই আগেই সমুদ্রপথে পাঠানো হয়েছিল। তাই এতে রাশিয়ার সরকারের তেমন আর্থিক সুবিধা হবে না।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই আমেরিকার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হবে।"
বেসেন্ট বলেন, "ভারত সবসময় দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। আমেরিকা যখন তাদের রাশিয়ার নিষিদ্ধ তেল না কেনার অনুরোধ করেছিল, তখন ভারত তা মেনে নিয়েছিল। তারা এর পরিবর্তে আমেরিকার তেল কেনার পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু বিশ্বজুড়ে তেলের সাময়িক ঘাটতি কমাতে ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।"

No comments:
Post a Comment