লাইফস্টাইল ডেস্ক, ২০ এপ্রিল ২০২৬: ওজন কমিয়ে ছিপছিপে শরীর পেতে কে না চায়! কিন্তু বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, কেউ ওজন কমানোর যাত্রা শুরু করেছেন, তবে ১-২ কিলো কমার পর আর ওজন কমছে না। প্রায় সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হচ্ছে বা বলতে পারেন সর্বোত্তম চেষ্টা সত্ত্বেও ওজন কমছে না। আপনার সঙ্গেও কি এমনটাই হচ্ছে? তাহলে এই ১০টি ভুলই হতে পারে এর কারণ। ডঃ বিমল চ্যাটার্জী ওজন কমানোর সময় বেশিরভাগ মানুষের করা ১০টি ভুলের একটি তালিকা দিয়েছেন। আসুন জেনে নিই সেগুলো কি কি-
খাবার বাদ দেওয়া
অনেকে ক্যালোরি কমাতে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেন, যার ফলে তাদের বিপাক ক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে তাদের এতটাই খিদে পায় যে তারা আগের চেয়ে দ্বিগুণ খেয়ে ফেলেন, যা ওজন কমানোর পথে বাধা সৃষ্টি করে।
ক্র্যাশ ডায়েট
ক্র্যাশ ডায়েটের ফাঁদে পড়বেন না; ক্ষিদে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রোটিন ও ফাইবারে সমৃদ্ধ সুষম খাদ্যতালিকা মেনে চলুন।
শুধু ব্যায়াম যথেষ্ট নয়
শুধুমাত্র ব্যায়াম করলে ওজন কমে না। সঠিক খাদ্যাভ্যাসের সাথে ব্যায়াম করলে, তবেই ওজন কমবে।
প্রোটিন ও ফাইবারের অভাব
খাদ্যাভ্যাসে ক্যালোরি কমান কিন্তু প্রোটিন ও ফাইবার যোগ না করলে সারাদিন ক্ষিদে পেতে পারে এবং এর ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে, যা ওজন কমানোর যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান না করা
কখনও কখনও শরীর জলশূন্য হয়ে পড়ে এবং মানুষ এটিকে ক্ষিদে পাওয়া ভেবে হালকা খাবার বা স্ন্যাকস খেতে শুরু করেন। অথচ সেই সময় শরীরের জলের প্রয়োজন হয়। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা জরুরি।
ঘুমের অভাব
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়, যা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং ওজন বৃদ্ধির কারণ হয়।
প্যাকেটজাত ডায়েট খাবার খাওয়া
অনেকেই 'ডায়েট' লেবেলযুক্ত প্যাকেটজাত খাবার খান। তবে, এই খাবারগুলোও প্রক্রিয়াজাত এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আর এগুলোর ক্যালোরি ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
দ্রুত ফল
ওজন কমাটা ধীরে ধীরে হয়। আপনি দশ থেকে পনেরো দিনের মধ্যে কোনও ফল দেখতে পাবেন না। তাই দ্রুত ফলের লোভে পড়বেন না।
মানসিক চাপজনিত খাওয়া
কিছু মানুষ মানসিক চাপে থাকলে বেশি খেয়ে থাকেন। তাই, আপনার মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন এবং এটি পরিহার করুন।
ধারাবাহিকতার অভাব
আপনি যদি ওজন কমাতে চান, তবে ধারাবাহিকতা অপরিহার্য। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন এটি করলে কোনও লাভ হবে না। ফলাফল দেখতে হলে আপনাকে এক থেকে দুই মাস ধরে প্রতিদিন এটি করতে হবে।
আর হ্যাঁ, যে কোনও ফিটনেস রুটিন বা খাদ্যতালিকায় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নিন।

No comments:
Post a Comment