ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৭ এপ্রিল ২০২৬: শীত হোক বা গরমকাল, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ঝালঝাল চটপটা ফুচকা খেতে ভালোবাসেন না এমন কম লোকই আছেন। কিন্তু ভেবে দেখুন তো একবার, এই প্রিয় খাবারটিই যদি মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেয়! আজ্ঞে হ্যাঁ, এমনই ঘটনা ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের গিরিডিতে। এখানে রাস্তার ধারের একটি দোকান থেকে গোলগাপ্পা বা ফুচকা খেয়ে ১৮ জনেরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় এক বিক্রেতার কাছ থেকে ফুচকা-চাট খেয়ে ৬ বছর বয়সী এক বালকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। মৃত বালকটির নাম রঞ্জন কুমার। একসঙ্গে এত মানুষের স্বাস্থ্যের অবনতি পুরো গ্রামে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।
জানা যায় শনিবার সন্ধ্যায় এক বিক্রেতার থেকে গোলগাপ্পা ও ছোলা খেয়েছিলেন শিশুসহ অনেকেই। রাত পর্যন্ত সবাই ভালোই ছিল কিন্তু রবিবার সকালে শিশুরা হঠাৎ অসুস্থ বোধ করতে শুরু করে। তাদের বমি, ডায়রিয়া এবং পেটে ব্যথার শুরু হওয়ায় গ্রামে চিল-চিৎকার শুরু হয়। প্রথমে স্থানীয় স্তরে চিকিৎসা শুরু করা হয় কিন্তু তাদের অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়লে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের একটি দল সকলের চিকিৎসা করছে।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনও উদ্বিগ্ন এবং নড়েচড়ে বসে। আহতদের সবাইকে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকদের একটি দল সকলের চিকিৎসা করছে।
অন্যদিকে মৃত বালক রঞ্জন কুমারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে গিরিডিহ-র ডেপুটি কমিশনার রাম নিবাস যাদব, এসডিএম শ্রীকান্ত যশবন্ত বিসপুতে, সিভিল সার্জন বাচ্চা সিং এবং এসডিপিও জিতওয়াহন ওরাওঁ সহ বেশ কয়েকজন আধিকারিকরা হাসপাতালে ছুটে যান এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
প্রশাসন অবিলম্বে গ্রামে মেডিকেল টিম এবং অ্যাম্বুলেন্স পাঠায় অন্য ক্ষতিগ্রস্তদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আধিকারিকরা স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে চিকিৎসা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। ডেপুটি কমিশনার ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দেন। বালকের মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার। তাঁদের চোখের জল যেন বাঁধ মানছে না।
ডেপুটি কমিশনার রামনিবাস যাদব জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বাজতো গ্রামে রাস্তার ধারের একটি দোকান থেকে ফুচকা ও চাট-ছোলা খেয়ে প্রায় ১৮ জন শিশু ও দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এক শিশু মারা গেছে এবং বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গ্রামটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে আগে থেকেই গরম থেকে হওয়া ডায়রিয়ার প্রকোপ ছিল।
তিনি বলেন,পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হবে। এদিকে, সিভিল সার্জন বাচ্চা সিং খাদ্যে বিষক্রিয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, মৃত শিশুটির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে।
আধিকারিকরা জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে রাখা বাসি খাবার এর কারণ হতে পারে। জলের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং কারণ নির্ণয়ের জন্য তদন্ত চলছে।
এসডিএম শ্রীকান্ত যশবন্ত ভিসপুতে জানান যে, প্রশাসন সন্ধ্যা ৭টার দিকে খবরটি পায়। এরপর প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দল সমন্বয় করে ১৮ জন অসুস্থ শিশুসহ অন্যদের হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে সকলেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

No comments:
Post a Comment