ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৬ এপ্রিল ২০২৬: ভালোবেসে বিয়ে হয়েছে মাত্র সাত মাস। এই সময় চোখে কত স্বপ্ন থাকে ভবিষ্যতের জন্য। কিন্তু কোথায় সেসব! স্ত্রীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে প্রাণ দিলেন এক যুবক। গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। আর আত্মহত্যার আগে ওই যুবক একটি ভিডিও করেন এবং নিজের মৃত্যুর জন্য স্ত্রীকে দায়ী করেন। মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে ঘটেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পুলিশ বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করছে। রবিবার এই ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
হাবিবগঞ্জ থানা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। স্ত্রীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে যুবকটি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ভিডিওতে তিনি আত্মহত্যার জন্য তাঁর স্ত্রীকে দায়ী করেছেন। জানা গেছে, মৃত যুবকের মাত্র সাত মাস আগেই বিয়ে হয়েছিল। স্ত্রীর ঠাকুরমার বিরুদ্ধেও উস্কানির অভিযোগ তুলেছেন ওই যুবক। ভিডিওতে তিনি জানান, তাঁর মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ী স্ত্রী স্নেহা সোলাঙ্কি।
জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম বিকাশ। তিনি তাঁর স্ত্রীর প্রতারণা ও অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে এই চরম পদক্ষেপ করেছেন বলে অভিযোগ। ভোপালের হাবিবগঞ্জ থানার ভারত নগর এলাকার একটি হোটেল থেকে ঝুলন্ত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত যুবকের নাম বিকাশ কুমার। বিকাশ বেশ কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর পরিবার তাকে খুঁজতে হোটেলে পৌঁছায় কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ।
মৃত্যুর আগে যুবক যে ভিডিও বানিয়েছিলেন, তাতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'আমি আমার ইচ্ছায় আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি এবং এর জন্য একমাত্র দায়ী আমার স্ত্রী স্নেহা সোলাঙ্কি। আমাকে খুব বিরক্ত করে রেখেছে সে। ১০ দিন আগেই ও নিজেও সমস্ত নথি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তার বাপের বাড়ি নিয়ে যায়, আমাকে না জানিয়ে। গত এক মাস থেকে আমাকে অনেক বেশি প্রতারণা করছে ও।'
তিনি আরও বলেন, 'আমার ওপর ও প্রতিদিন অত্যাচার করত, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করত যে আমি তাকে মারধর, সন্দেহ করি। কিন্তু এমনটা কিছুই হয়নি। আমাদের বিয়ের মাত্র সাত মাস হয়েছে আর ও আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ওর ঠাকুরমাও ওকে উস্কানি দিতেন। এইসব কিছুর চিন্তায় আমি এখন আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি। আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ী আমার স্ত্রী স্নেহা সোলাঙ্কি।'
এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই হোটেলের ম্যানেজার জানান, শনিবার সকাল ১১টার দিকে বিকাশ হোটেলে চেক-ইন করেন। তিনি বলেন, 'তার শরীরটা একটু খারাপ লাগছিল এবং তিনি দুই-তিন ঘন্টা বিশ্রাম নিতে চেয়েছিলেন। দুপুর ২টার দিকে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে হোটেলের কর্মীদের কাছে একটি চার্জার চান। এরপর তিনি একটি ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিকাশের ভাই হোটেলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বাইরে তার বাইকটি পার্ক করা দেখতে পান। তিনি হোটেলে ঢুকে খোঁজ নেন।
এরপর তাঁর ভাই ও হোটেলের কর্মীরা বিকাশের ঘরে গিয়ে দেখেন ঘরটি ভেতর থেকে বন্ধ। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় বিকাশকে মৃত দেখতে পায়। বিকাশ একজন গাড়িচালক ছিলেন। হোটেলে আসা পরিবারের সদস্যরা জানান, বিকাশ সাত মাস আগে এক তরুণীকে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ বর্তমানে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

No comments:
Post a Comment