ভোটের আগে বড় জট! ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট, হাই কোর্টের কাছে রিপোর্ট তলব - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, April 20, 2026

ভোটের আগে বড় জট! ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট, হাই কোর্টের কাছে রিপোর্ট তলব


 পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোট ২০২৬ যত এগিয়ে আসছে, ততই জটিল হয়ে উঠছে ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রক্রিয়া। অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমার বদলে আরও বাড়ছে। এর মাঝেই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম  কোর্ট  (Supreme Court of India)।


শীর্ষ আদালত আগেই নির্দেশ দিয়েছিল, ট্রাইব্যুনালগুলিতে শুনানি চালু রেখে নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া সচল রাখতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ পুরোপুরি মানা হচ্ছে না বলেই অভিযোগ উঠেছে। আইনজীবী দেবদত্ত  কামাত আদালতে দাবি করেছেন, অনেক ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালে আইনজীবীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরাও সশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন জানাতে পারছেন না।

এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, ট্রাইব্যুনালগুলিতে যথাযথ শুনানি বা বিচার-বিবেচনার পরিবর্তে আবেদনগুলি যান্ত্রিকভাবে, কম্পিউটার নির্ভর পদ্ধতিতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে—যা স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

এই পরিস্থিতিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত  প্রশ্ন তোলেন, নির্দেশ দেওয়ার পরেও কেন বারবার একই বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। তাঁর মন্তব্য, পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণে থাকত, তাহলে প্রতিদিন নতুন করে এত আবেদন জমা পড়ত না।

মামলাকারী পক্ষ জানায়, নির্দেশ সঠিকভাবে কার্যকর না হওয়ার কারণেই তাঁদের বারবার আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। এরপরই প্রধান বিচারপতি জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে তিনি কলকাতা হাই কোর্ট-এর প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইবেন।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব হাই কোর্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।

শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল—ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল যাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করবে, তাঁরাই ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু যদি ট্রাইব্যুনালের কাজই সঠিকভাবে এগোয় না, তাহলে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার প্রশ্নের মুখে পড়বে।

এখন নজর রয়েছে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির রিপোর্টের দিকে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই শীর্ষ আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও কঠোর নির্দেশ আসতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad