কানপুরে নৃশংসতা: বাবার হাতে খুন ১১ বছরের যমজ কন্যা, নিজেই পুলিশে ফোন, এলাকায় চাঞ্চল্য! - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, April 20, 2026

কানপুরে নৃশংসতা: বাবার হাতে খুন ১১ বছরের যমজ কন্যা, নিজেই পুলিশে ফোন, এলাকায় চাঞ্চল্য!


 উত্তরপ্রদেশের কানপুর জেলা থেকে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে, যা মানবিক অনুভূতি এবং সম্পর্কের পবিত্রতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। সন্তানদের রক্ষক হিসেবে পরিচিত এক বাবা তার ১১ বছর বয়সী যমজ কন্যাদের শিকারীতে পরিণত হন। কানপুরের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে শশী রঞ্জন মিশ্র নামের এক ব্যক্তি তার দুই কন্যা ঋদ্ধি ও সিদ্ধিকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই জঘন্য অপরাধ করার পর অভিযুক্ত নিজেই পুলিশকে ফোন করে ঘটনাটি জানায়, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।


খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ফ্ল্যাটের দরজা খোলা ছিল এবং ভেতরের দৃশ্য ছিল ভয়াবহ। বিছানায় রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। সেখানে রক্তমাখা মেয়ে দুটির মৃতদেহ পড়ে ছিল। প্রাথমিক তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষায় মেয়েদের গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে।

পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করে। মূলত বিহারের বাসিন্দা শশী রঞ্জন মিশ্র কানপুরের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। ২০১৪ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা রেশমা ছেত্রীকে বিয়ে করেন, কিন্তু তাদের প্রেমের বিয়ে শীঘ্রই পারিবারিক কলহের শিকার হয়। মৃত মেয়েদের মা রেশমা পুলিশের কাছে তার স্বামীর নিষ্ঠুরতার এক চাঞ্চল্যকর বিবরণ দিয়েছেন। রেশমার অভিযোগ, শশী রঞ্জন তার চরিত্র নিয়ে গভীরভাবে সন্দিহান ছিলেন এবং এই মানসিক অসুস্থতার কারণে প্রায়শই মদ্যপ অবস্থায় তার ওপর হামলা করতেন। বাড়ির ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো এবং কাউকে নিজের ঘরে ঢুকতে না দেওয়া তার এই অদ্ভুত আচরণেরই অংশ ছিল। বিবাদ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে রেশমা নয় মাস তার বাবা-মায়ের বাড়িতে ছিলেন, কিন্তু মেয়েদের প্রতি ভালোবাসা তাকে কানপুরে ফিরিয়ে আনে। তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে, যে ভালোবাসা তাকে ফিরিয়ে এনেছিল, সেই ভালোবাসাই আর বেঁচে থাকবে না।

ঘটনার রাতের বিষয়ে জানা গেছে যে, পুরো পরিবার একসাথে রাতের খাবার খেয়েছিল। এরপর অভিযুক্ত দুই মেয়েকে ঘুমানোর জন্য তার ঘরে নিয়ে যায়। রাত প্রায় আড়াইটার দিকে, তিনি তার এক মেয়েকে বাথরুমে নিয়ে যাওয়ার অজুহাতে ঘুম থেকে ওঠেন এবং সম্ভবত তখনই এই রক্তাক্ত ঘটনা শুরু হয়। পুলিশ এখন মামলার আইনি দিকগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করছে।


অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যার প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাটি সমাজে মানসিক চাপ এবং গার্হস্থ্য সহিংসতার উদ্বেগজনক মাত্রা তুলে ধরে, যেখানে একজন নিষ্পাপ শিশুর শৈশব তার আপনজনদের হাতেই অকালে শেষ হয়ে গেল। 

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad