ভারতের পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিবর্তিত ভূমিকা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলে একটি নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতার কথা উল্লেখ করে কংগ্রেস পার্টি কেন্দ্রের মোদী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে। প্রধান বিরোধী দলটির দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বর্তমান কূটনৈতিক কৌশল শুধু বিশ্বব্যাপী পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থই হয়নি, বরং দেশ এখন একটি নতুন আন্তর্জাতিক পরিচয় লাভ করছে।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এই ঘটনাকে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সোমবার তিনি জোরালোভাবে মন্তব্য করেন যে, পাকিস্তান, যে দেশটিকে ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে "সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক" হিসেবে চিহ্নিত করার এবং অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, সেই দেশই আজ দুটি প্রধান দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার আয়োজন করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের পূর্ববর্তী বক্তব্যের কথা স্মরণ করে জয়রাম রমেশ কটাক্ষ করে বলেন যে, যে দেশকে একসময় "দালাল" বলা হতো, সেটিই এখন কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।
কংগ্রেস নেতা তাঁর যুক্তিতে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান নিরাপত্তা সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, পাকিস্তানের অর্থনীতি বর্তমানে মারাত্মক সংকটে রয়েছে এবং মিত্র দেশগুলোর আর্থিক সাহায্যের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। তা সত্ত্বেও, যে দেশ একসময় ওসামা বিন লাদেনের মতো সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়েছিল এবং আফগানিস্তানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছিল, সেই দেশই এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করছে। গত বছরের পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করে রমেশ অভিযোগ করেন যে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও নেতৃত্ব আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দিয়েছে, তবুও তারা আন্তর্জাতিকভাবে সক্রিয় রয়েছে।
মনমোহন সিং সরকারের মেয়াদের সঙ্গে তুলনা করে কংগ্রেস বলে যে, ২০০৮ সালের মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত সফলভাবে পাকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চে একঘরে করে ফেলেছিল। রমেশ দাবি করেন যে, পাকিস্তানের বর্তমান সামরিক প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তাঁর প্রশাসন মার্কিন প্রশাসন, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের তোষামোদ করার ক্ষেত্রে ভারতের চেয়ে বেশি সফল হয়েছে। তিনি এটিকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন যে ভারতের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার পদ্ধতিতে অবিলম্বে একটি আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।
এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাকিস্তানের আয়োজিত শান্তি আলোচনা। কংগ্রেস মনে করে যে, এই ঘটনা পাকিস্তানকে একটি ‘অস্পৃশ্য’ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ভারতের কৌশলকে চ্যালেঞ্জ করছে। দলটি স্পষ্ট করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী মোদী বর্তমান বৈশ্বিক গতিপ্রকৃতি বুঝতে এবং ভারতের স্বার্থ রক্ষা করতে ‘সম্পূর্ণ অক্ষম’ প্রমাণিত হচ্ছেন। এই বিবৃতিটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন বৈশ্বিক রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং ভারত তার ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি বাস্তবায়নের জন্য সচেষ্ট। বিরোধী দলের এই অভিযোগগুলো সরকারের পররাষ্ট্রনীতির কার্যকারিতা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর সন্দেহ তৈরি করেছে।

No comments:
Post a Comment