প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে রবিবার গভীর রাতে জগদ্দলে তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। থানার ভিতরেই বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জেরে এখনও পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে অর্জুন সিং অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সভা বানচাল করার উদ্দেশ্যে আগেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার এবং তাঁর পুত্র পবন সিংকে টার্গেট করেই এই হামলার ছক কষা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, পবন সিং এই ঘটনায় জড়িত না থাকা সত্ত্বেও তাঁর বাড়িতে ইট ছোঁড়া হয় এবং তাঁর নিরাপত্তারক্ষী গুলিবিদ্ধ হন। এই সবকিছু পূর্বপরিকল্পিত বলেই দাবি করেন তিনি।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার সময় পুলিশ থানা ছেড়ে চলে যায় বলেও অভিযোগ তোলেন অর্জুন সিং। পাশাপাশি তিনি এই ঘটনার তদন্ত একটি কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন কৌশিক দাস, সিকান্দার প্রসাদ, শ্যামদেব শাউ এবং ভাটপাড়া পুরসভার কাউন্সিলর গোপাল রাউথ। রবিবার রাতেই একাধিক জায়গায় মোট পনেরো জন অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়, তবে চার জন ছাড়া অন্য কাউকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সূত্রপাত একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার একটি মামলার নথির কপি সংগ্রহ করতে জগদ্দল থানায় যান। সেই সময় তৃণমূলের স্থানীয় কাউন্সিলর মনোজ পাণ্ডে, সৌরভ সিং এবং তাঁদের সমর্থকেরা থানায় উপস্থিত হন। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই ঘটনার খবর পেয়ে অর্জুন সিং তাঁর সমর্থকদের নিয়ে থানায় পৌঁছন। তাঁর অভিযোগ, পুরো ঘটনার পিছনে তৃণমূল নেতৃত্বেরই ভূমিকা রয়েছে।

No comments:
Post a Comment