পশ্চিম এশিয়া সংকট নিয়ে একটি অভিন্ন অবস্থান তৈরির ভারতীয় প্রচেষ্টা ধাক্কা খেল
নয়াদিল্লির কৌশলগত করিডোরে অনুষ্ঠিত ব্রিকস দেশগুলোর এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি বিশ্ব কূটনীতির এক জটিল পর্যায়ের সাক্ষী হলো। ভারত, যা বর্তমানে এই প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করছে, পশ্চিম এশিয়ার জ্বলন্ত সমস্যাগুলোর—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার ত্রিমুখী সংঘাতের—বিষয়ে একটি ঐক্যমত্যের অবস্থান তৈরির জন্য জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। তবে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে গভীর আদর্শগত ও কৌশলগত মতপার্থক্য এই উদ্যোগকে বাস্তবায়িত হতে দেয়নি। বৈঠকটি একটি যৌথ ঘোষণার পরিবর্তে শুধুমাত্র একটি 'সভাপতির বিবৃতি' দিয়ে শেষ হয়, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি ঐক্যবদ্ধ বার্তা দেওয়ার ভারতীয় আকাঙ্ক্ষার প্রতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে যখন ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ এবং এতে ইরানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আলোচনায় আসে, তখন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন দেখা দেয়। সূত্রমতে, গোষ্ঠীর কিছু প্রভাবশালী সদস্য ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে একটি অত্যন্ত কঠোর ও নিন্দামূলক অবস্থান নিতে অনড় ছিলেন। এর বিপরীতে, অন্য কিছু সদস্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সতর্ক বিবৃতি দেওয়ার ওপর জোর দেন, যাতে বৈশ্বিক গতিপ্রকৃতির ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব না পড়ে। স্বার্থের এই সংঘাত এবং আঞ্চলিক রাজনীতি বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি একটি যৌথ নীতি দলিল প্রণয়নে বাধা সৃষ্টি করেছিল। এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং ছিল, কারণ সভাপতি হিসেবে তার ভূমিকা ছিল সবাইকে আলোচনার টেবিলে আনা এবং ঐকমত্য তৈরি করা।
কূটনৈতিক পর্যায়ে, ভারত ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার কয়েক দশক পুরোনো এবং ধারাবাহিক নীতি জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে। নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে যে, তারা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই অঞ্চলে অবিলম্বে শান্তি পুনরুদ্ধারের পক্ষে। এই অবস্থানটি ভারতের কূটনৈতিক ভারসাম্যের ঐতিহ্যবাহী নীতির অংশ, যেখানে দেশটি মানবিক কারণে ফিলিস্তিনকে সমর্থন করার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বৈশ্বিক বিষয়গুলিতে দৃঢ় থাকে। একটি যৌথ বিবৃতি গঠনে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও, ভারত নিশ্চিত করেছে যে ফিলিস্তিন বিষয়ে তার জাতীয় অবস্থান অটুট থাকবে।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি এই কঠোর বাস্তবতাও উন্মোচন করেছে যে, পশ্চিম এশিয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে ঐক্য অর্জন করা কতটা কঠিন, এমনকি ব্রিকসের মতো গোষ্ঠীর মধ্যেও, যাদেরকে গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রায়শই পরস্পরবিরোধী কৌশলগত স্বার্থ সম্মিলিত সংকল্পকে ছাপিয়ে যায়। তবে, শুধুমাত্র একটি 'সভাপতির বিবৃতি' জারি করা সম্পূর্ণ ব্যর্থতা নয়; বরং, এটি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশে ঐকমত্য গড়ে তোলার জন্য আরও গভীর আলোচনার প্রয়োজনীয়তার দিকে ইঙ্গিত করে। ভারত তার সভাপতিত্বকালে কীভাবে এই মতপার্থক্যগুলো দূর করে এবং গোষ্ঠীটির প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখে, তা দেখা আকর্ষণীয় হবে।

No comments:
Post a Comment