ভোরের আলো ফোটার আগেই কলকাতার গঙ্গার বুকে এক অন্য ছবি ধরা পড়ল। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নৌকায় চেপে শান্ত নদীর বুক চিরে এগিয়ে চললেন, আর সেই মুহূর্তে শহরের দুই ঐতিহ্য—হাওড়া ব্রিজ ও বিদ্যাসাগর সেতু—ধরা পড়ল এক অনন্য রূপে। হুগলি নদীর জলে ভেসে এই সফর যেন শুধুই রাজনৈতিক নয়, আবেগেরও এক প্রকাশ।
প্রধানমন্ত্রী জানান, গঙ্গার সঙ্গে বাংলার সম্পর্ক শুধু ভৌগোলিক নয়, গভীর আত্মিক। এই নদী যুগের পর যুগ ধরে সভ্যতার ইতিহাস বহন করে চলেছে। সেই কারণেই কলকাতায় এসে গঙ্গাকে প্রণাম জানাতে পেরে তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন বলে জানান।
নৌকায় ভ্রমণের সময় তাঁকে বেশ স্বচ্ছন্দ মেজাজেই দেখা যায়। মাঝির সঙ্গে কথা বলে তাঁর পরিশ্রমের প্রশংসা করেন তিনি। নদীর ধারে হাঁটতে বেরোনো সাধারণ মানুষের সঙ্গেও কথাবার্তা বলেন, যা ঘিরে তৈরি হয় কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস। গঙ্গার বুক থেকেই তিনি বাংলার উন্নয়ন ও মানুষের সমৃদ্ধির বার্তা তুলে ধরেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগের দিন যে হাওড়া ব্রিজের উপর দিয়ে তিনি জনসংযোগ করেছিলেন, এদিন সেই একই সেতুকে নদীর দিক থেকে এক ভিন্ন সৌন্দর্যে দেখার সুযোগ পেলেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সফরের সময়টাও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সামনে দ্বিতীয় দফার ভোটে কলকাতা ও হাওড়া বড় ভূমিকা নিতে চলেছে।
এর আগেও তাঁর এক সাধারণ মুহূর্ত নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল, যখন জঙ্গলমহলে সফরের সময় হঠাৎ কনভয় থামিয়ে ঝালমুড়ি খেতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। যদিও সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরের তরফে সমালোচনাও শোনা যায়, বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটিকে সাজানো বলেই দাবি করেছিলেন।
নৌকাভ্রমণ শেষে এদিন তাঁর একাধিক জনসভায় যোগ দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।

No comments:
Post a Comment