'আমার মৃতদেহ বাবা যেন স্পর্শ করতে না পারে---', পাঁচতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী আইনজীবী - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, April 24, 2026

'আমার মৃতদেহ বাবা যেন স্পর্শ করতে না পারে---', পাঁচতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী আইনজীবী


ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৪ এপ্রিল ২০২৬: আদালত ভবনের পঞ্চম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী আইনজীবী। মৃতের বয়স ২৪ বছর। আত্মহত্যা করার আগে তিনি দুই পৃষ্ঠার একটি নোট লিখে নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, "আমার সাথে যা কিছু ঘটেছে, আমার মনে হয় না এই বাজে জীবনটাতে বেঁচে থাকার যোগ্য।" বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের কানপুরে ঘটেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। 



ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সত্যজিৎ গুপ্ত জানান, প্রিয়াংশু শ্রীবাস্তব নামের এক আইনজীবী ভবন থেকে ঝাঁপ দেন। তাঁকে দ্রুত উরসুলা হর্সম্যান মেমোরিয়াল (ইউএইচএম) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এবং বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। কোতোয়ালি পুলিশ এসে এলাকাটি ঘিরে ফেলে।


ডিসিপি ইস্ট সত্যজিৎ গুপ্তা আরও জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে যে, প্রিয়াংশু পঞ্চম তলায় বসে ফোনে কথা বলার পর ছাদ থেকে লাফ দেন।


ঘটনার কিছুক্ষণ আগে প্রিয়াংশু তার হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে দুই পৃষ্ঠার একটি সুইসাইড নোট শেয়ার করেন। তাঁর সুইসাইড নোটে তিনি লিখেছেন, "আমার শেষ ইচ্ছা, সবাই যেন এই সুইসাইড নোটটি শেষ পর্যন্ত পড়েন... আমি প্রিয়াংশু শ্রীবাস্তব, কানপুরের বাররা-৮, বরুণ বিহারের বাসিন্দা। আজ, ২৩শে এপ্রিল, আনুমানিক দুপুর ১২:০৫ মিনিটে, আমি কোনূ চাপ বা জোরজবরদস্তি ছাড়াই, সম্পূর্ণ সচেতন অবস্থায় এই সুইসাইড নোটটি লিখে আত্মহত্যা করছি। আমি একজন নিবন্ধিত আইনজীবী, ২০২৫ সালে কানপুর নগর থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেছি। সময়ের অভাবে আমি প্রয়াগরাজের উত্তর প্রদেশ বার কাউন্সিল থেকে আমার নিবন্ধন করাতে পারিনি।"


তিনি আরও লিখেছেন, "গল্পটা শুরু আমার শৈশব থেকে। প্রায় ৬ বছর বয়সে, আমি ফ্রিজে রাখা আমের রস পান করি এবং আমাকে বিবস্ত্র করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রতি মিনিটে সন্দেহের চোখে দেখা, প্রতি মিনিটের হিসাব রাখা... এটা মানসিক নির্যাতন ছাড়া আর কিছুই নয়। হাই স্কুলের পরীক্ষার ফলাফল আসার আগে আমার বাবা হুমকি দিয়েছিলেন যে, নম্বর কম পেলে তিনি আমাকে বিবস্ত্র করে বাড়ি থেকে বের করে দেবেন। প্রতিদিন যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু বরণ করার চেয়ে একদিন মরে যাওয়া লক্ষ গুণ ভালো। আমি সকল বাবা-মায়ের কাছে আবেদন করছি, তাঁরা যেন তাঁদের সন্তানদের কেবল ততটুকুই কষ্ট দেন, যতটুকু তাঁরা সহ্য করতে পারেন। আমি অনুরোধ করছি, বাবা যেন আমার মৃতদেহটা পর্যন্ত স্পর্শ না করতে পারেন। আমি হেরে গেছি, বাবা জিতে গেছেন। লাভ ইউ মা...।"


আত্মহত্যা করার আগে প্রিয়াংশু দুপুর ১২:০৫ মিনিটে দুই পৃষ্ঠার একটি সুইসাইড নোট লেখেন। ২১ মিনিট আগে তিনি নোটটি তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে পোস্ট করেন। এই নোটটি তিনি তাঁর বাবা ও বন্ধুদেরও ফরোয়ার্ড করেন। কিন্তু তাঁর পরিবার ও বন্ধুরা নোটটি দেখার আগেই তিনি আত্মহত্যা করে ফেলেন। পুলিশ তাঁর মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং সুইসাইড নোট ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ পরীক্ষা করছে। পুলিশ আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad