আজকাল বিহারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে একটি বড় পরিবর্তনের জোরালো গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। রাজ্যের ক্ষমতার কাঠামোতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর, পুরনো সিদ্ধান্তগুলো পাল্টে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, যিনি বর্তমানে রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার বিভাগের দায়িত্বে আছেন, তিনি একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহার আমলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার শিকার হওয়া ২২৪ জন রাজস্ব কর্মচারীর সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করার আদেশ জারি করেছেন তিনি। সরকারের এই পদক্ষেপটি কেবল কর্মচারীদের প্রতি তাদের মনোভাবের নমনীয়তাই প্রকাশ করে না, বরং রাজ্যের স্থবির হয়ে পড়া প্রশাসনিক কাজকে পুনরায় সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এই পুরো ঘটনার মূলে রয়েছে রাজস্ব কর্মচারীদের গত আড়াই মাস ধরে চলমান অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। ‘বিহার রাজ্য ভূমি সংস্কার কর্মচারী ইউনিয়ন’-এর ব্যানারে রাজ্যজুড়ে রাজস্ব কর্মচারীরা ১১ই ফেব্রুয়ারি থেকে গণছুটিতে যান। তাদের দাবিগুলো ছিল সুস্পষ্ট: দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বেতন স্কেল সংশোধন, নিজ জেলায় পদায়ন, মিউটেশন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জোনাল অফিসগুলোতে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। তৎকালীন বিভাগীয় মন্ত্রী বিজয় সিনহা এই দাবিগুলোর বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেন, ধর্মঘটকে বেআইনি ঘোষণা করেন এবং কাজে ফিরতে অস্বীকার করা ২০০ জনেরও বেশি কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন। এই কঠোর সিদ্ধান্তটি বিভাগ এবং কর্মচারী সংগঠনগুলোর মধ্যে একটি গভীর বিভেদ সৃষ্টি করে।
সম্রাট চৌধুরী বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথেই সরকারের অবস্থানে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মহেন্দ্র পালের পক্ষ থেকে সমস্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে এই প্রশাসনিক অচলাবস্থার অবসান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। চিঠিতে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ এপ্রিলের মধ্যে বরখাস্ত হওয়া রাজস্ব কর্মচারীদের বরখাস্তের বিষয়টি সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করে তাদের বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। সরকারের এই অবস্থান পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান দুর্ভোগ এবং সরকারি প্রকল্পগুলোর স্থবিরতাকে উল্লেখ করা হয়। জেলাগুলোতে রাজস্ব কর্মচারীদের অনুপস্থিতি জমির নামজারি, সনদপত্র প্রদান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, চলমান আদমশুমারির প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছিল।
মজার ব্যাপার হলো, বিজয় সিনহার মেয়াদে নেওয়া সিদ্ধান্তে সম্রাট চৌধুরী এই প্রথমবার বাধা দেননি। এর আগেও, নগর উন্নয়ন ও আবাসন বিভাগ সিনহার মেয়াদে শুরু হওয়া ক্ষমতাপ্রাপ্ত স্থায়ী কমিটির নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করেছিল। তবে, রাজস্ব কর্মীদের জন্য স্বস্তির খবরের মাঝেও সার্কেল অফিসার (সিও) এবং রেভিনিউ অফিসারদের (আরও) জন্য পরিস্থিতি এখনও কঠিন। ৪৫ জনেরও বেশি কর্মকর্তা এখনও বিভাগের নজরদারির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং তাদের বরখাস্তের বিষয়ে কোনো নমনীয়তা দেখানো হয়নি। সরকারের এই পদক্ষেপকে ভবিষ্যতের প্রশাসনিক সংস্কারের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ভারসাম্য রক্ষা করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে মনে হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment