দু’দিন বাদে রাজ্যে শুরু হতে চলেছে প্রথম দফার ভোট। তার আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা ঘোষণা করেন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুলিশ বা প্রশাসনের কোনও স্তরেই অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে বড় আপডেট
তিনি জানান, আজ রাত বারোটা পর্যন্ত জমা পড়া নামগুলির ভিত্তিতেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেই তালিকা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক, রিটার্নিং আধিকারিক এবং রাজনৈতিক দলগুলির কাছে পাঠানো হবে। আগামী দিনের মধ্যেই সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে যাবে স্বচ্ছ ও নির্ভুল তালিকা। একই সঙ্গে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে— দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে চাকরি থেকেও সরানো হতে পারে।
ভোটের আগে কড়া নজরদারি, বহিরাগতদের নিয়ে সতর্কতা
ভোটের আবহে বাইক ব্যবহার করে অশান্তি সৃষ্টি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় কাজে বাইক ব্যবহারে বাধা নেই। প্রতিটি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, রাতের মধ্যেই তাদের এলাকায় কোনও বহিরাগত রয়েছে কি না, তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। বিশেষভাবে একবালপুর থানাকে সতর্ক করা হয়েছে— আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এছাড়া আবাসনে থাকার ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম চালু হয়েছে— সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকার ভোটার নন, এমন কেউ আত্মীয় পরিচয়ে সেখানে থাকতে পারবেন না।
হেল্পলাইন, রোড শো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
কমিশনের হেল্পলাইন নম্বর ব্যস্ত থাকলে বিকল্প হিসেবে রাজ্যপালের হেল্পলাইন নম্বর ব্যবহার করা যাবে, সেখান থেকেও সহায়তা পাওয়া সম্ভব।
এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর রোড শোয়ের অনুমতি না মেলার প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে, তিনি অনলাইনে আবেদন করলেও পরে তা প্রত্যাহার করেন, এবং অফলাইনে কোনও আবেদন জমা পড়েনি। নন্দীগ্রামে পর্যবেক্ষক বদলের কারণ সম্পর্কে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানান, সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেই রয়েছে।

No comments:
Post a Comment