উত্তর ২৪ পরগনা: 'লাইনের জবাবটা লাইনে দাঁড়িয়েই দিতে হবে, বসিরহাটের সভা থেকে মন্তব্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে কটাক্ষ, একের পর এক আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ। দোরগোড়ায় দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। তার আগে এদিন শনিবার বসিরহাটে প্রচারে যান অভিষেক। সেখানে দক্ষিণ বিধানসভার উত্তর গুলাই চন্ডীর মাঠে জনসভা করেন এবং বিজেপিকে তীব্র নিশানা করেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "যারা আমাদের অপমানিত করেছে, বাংলাদেশী-রোহিঙ্গা বলেছে, কথায়-কথায় লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তাদের শিক্ষা দেওয়ার নির্বাচন, এই নির্বাচন।" তিনি বলেন, "আমরা মাছ-মাংস খেলে আমাদের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে, বাংলাদেশী বলা হয়।" তাঁর প্রশ্ন, "যারা আমাদের নিপীড়িত-বঞ্চিত ও অত্যাচারিত করে অপমানিত করেছে, তাঁদের শিক্ষা দেওয়া উচিৎ কিনা? বাংলায় কথা বলি বলে যারা বাংলা ভাষাভাষীদের অত্যাচার করে অন্য রাজ্যে জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া উচিৎ কিনা?"
তৃণমূল সাংসদ বলেন, "দিল্লী, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ থেকে এসে সব বলছে, 'উল্টো করে ঝুলিয়ে দেব'। বাঙালিকে বলছেন। আমাদের জায়গা, আমাদের মাটি, আমাদের পাড়া-এলাকা, এখানে জন্মেছি, বড় হয়েছি। সেখানে গুজরাটের নেতা এসে বলছেন, 'উল্টো করে ঝুলিয়ে দেব'। তাও আবার দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একথা বলছেন।"
তিনি বলেন, "আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি গরম বেশি পড়েছে, জল বেশি করে খান, শরীর সুস্থ রাখুন, মাথা ঠাণ্ডা রাখুন।" তাঁর চ্যালেঞ্জ, "আপনার যদি সৎ সাহস থাকে তাহলে চার তারিখ বাংলায় থাকবেন। বিকেল পাঁচটার পর দেখা হবে।" এরপরেই অভিষেকের মন্তব্য, "বিকেল পাঁচটা লাগবে না, বেলা বারোটার পর দেখা হবে। কে কাকে শিক্ষা দিচ্ছে, মানুষ প্রমাণ করে দেবেন।"
তাঁর খোঁচা, "যাদের কোনও দিন অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি তারা এখন গিয়ে মানুষকে বলছেন যে, 'আমরা এলে এই হবে, ওই হবে'। তোমরা ১২ বছর ক্ষমতায় কি করেছো তার হিসেব আগে দাও। যারা ক্ষমতায় না থেকে মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে, তারা যদি ক্ষমতায় থাকত, তাহলে কি করত! আগে মানুষ ভোট দিয়ে বলতেন সরকারে কে বসবে, সরকার নির্বাচিত করতেন। আর এখন সরকার বলে দিচ্ছে ভোট কে দেবে! ভাবুন সমাজটাকে কোথায় নিয়ে গেছে!"
তিনি বলেন, "তাই কষ্ট হলেও আমাদের যেভাবে লাইনে দাঁড় করিয়েছে; কখনও নোট বন্দির লাইন কখনও এসআইআরের লাইন, কখনো লকডাউনের লাইন, কখনও গ্যাসের লাইন। গরম বেশি পড়লেও, ঝড়-জল-বৃষ্টি হলেও লাইনের জবাবটা লাইনে দাঁড়িয়েই দিতে হবে।"
তিনি বলেন, "বাংলায় একটা কথা আছে- 'স্যাকরার ঠুকঠাক কামারের এক ঘা'। আমাদের যত অত্যাচারিত করেছে সব প্রতিশোধ আগামী ২৯ তারিখ হবে। এই ভোট প্রতিবাদের ভোট, প্রতিরোধের ভোট, প্রতিশোধের ভোট।"
জনগণের উদ্দেশ্যে অভিষেকের বার্তা, "কষ্ট হলেও লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেবেন। জোড়াফুলের বোতাম টিপবেন এখানে আর বহিরাগতরা জব্দ হবে দিল্লীতে, গুজরাটে, মধ্যপ্রদেশে। বাংলার বিরোধীতা করা কি, এর স্বাদ এদেরকে একটু চেখে দেখাতে হবে।"

No comments:
Post a Comment