ন্যাশনাল ডেস্ক, ৩০ এপ্রিল ২০২৬: স্ত্রী যদি উপার্জন করতে সক্ষম হন, তবে শুধুমাত্র কাজ না করার অজুহাতে তিনি স্বামীর কাছে ভরণপোষণ দাবী করতে পারেন না। রায় দিতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিচারপতি অতুল শ্রীধরন এবং বিচারপতি বিবেক শরণের ডিভিশন বেঞ্চ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ স্ত্রীর আপিল খারিজ করে পারিবারিক আদালতের আদেশ বহাল রেখেছে।
প্রয়াগরাজের বাসিন্দা স্বামী একজন নিউরোসার্জন এবং স্ত্রীও একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। স্ত্রী হিন্দু বিবাহ আইনের ২৪ এবং ২৬ ধারার অধীনে নিজের এবং তিন সন্তানের ভরণপোষণ দাবী করেছিলেন। পারিবারিক আদালত স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করেছিল, তবে স্বামীকে সন্তানদের জন্য প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
স্বামী প্রতিনিয়ত এই টাকা দিচ্ছিলেন। এরই মাঝে পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন স্ত্রী। তিনি বলেন, স্বামী মামলা দায়ের করার পরে, তাঁকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি বর্তমানে কাজ করছেন না। তাই স্বামীর কাছ থেকে আগের মতো একই জীবনধারা বজায় রাখার জন্য তাঁর ভরণপোষণ ভাতা পাওয়া উচিৎ।
স্বামীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, স্ত্রী একজন প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে তিনি নিজেও ভালো আয় করতে সক্ষম। আর তাই তাঁকে ভরণপোষণ দেওয়া উচিৎ নয়। হাইকোর্ট বলেছে, স্ত্রী একজন যোগ্য গাইনোকোলজিস্ট এবং তাঁর আয়কর রিটার্নও স্পষ্ট করেছে যে, তিনি প্রতি বছর ৩১ লাখ টাকার বেশি রিটার্ন ভরছিলেন।
আদালত বলেছে যে শুধুমাত্র কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বামীর ওপর আর্থিক বোঝা চাপানো উচিৎ নয়। এমন পরিস্থিতিতে আদালত ভরণ-পোষণ দিতে অস্বীকার করতে পারে।
হাইকোর্ট, মহিলার যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতা বিবেচনা করে বলেন যে, তিনি তাঁর বিশেষজ্ঞতার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আয় করতে সক্ষম এবং স্বাবলম্বী হওয়ার পূর্ণ সম্ভাবনা তার রয়েছে।
আদালত বলেন, "যেখানে একজন যোগ্য ব্যক্তি তাঁর দক্ষতার ভিত্তিতে পর্যাপ্ত আয় করতে সক্ষম, অথচ শুধুমাত্র স্বামীর ওপর বোঝা চাপানোর জন্য কাজ করেন না, সেখানে ধারা ২৪ অনুযায়ী ভরণপোষণ অস্বীকার করা যেতে পারে।"
এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে, হাইকোর্ট রায় দেয় যে, পারিবারিক আদালতের আদেশে কোনও ত্রুটি ছিল না এবং মহিলার আপিল খারিজ করে দেয়।

No comments:
Post a Comment