মুর্শিদাবাদ: প্রথম দফার ভোটের কাটতে না কাটতেই এবার রক্ত ঝরল বহরমপুরে। ভোট পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত একাধিক। অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে সাহায্য করায় জুটল তৃণমূলের মার, এমনই অভিযোগ। বাড়িতে ঢুকে বেধড়ক মার একই পরিবারের তিনজনকে। বহরমপুর ৪ নং ওয়ার্ডের ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য। উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে গেলেন বহরমপুর কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
অভিযোগ, দলীয় কর্মীদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে শাসক দল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় একজন গুরুতর জখম-সহ মোট চারজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, তীব্র গরমের মধ্যে নির্বাচনের কাজ করার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা সৌজন্যবশত কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীকে ফ্যানের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। অভিযোগ, এই দৃশ্য দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে তৃণমূলের স্থানীয় কর্মীরা। এরপরই শনিবার রাতে, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা কংগ্রেস কর্মী সেই পরিবারের লোকজনকে বাড়িতে ঢুকে এলোপাথাড়ি মারধর করে। এমনকি বাড়ির মেয়েদের গায়ে খারাপ স্পষ্ট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। এই হামলায় চারজন কংগ্রেস কর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত এলাকায় পৌঁছান অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি জখম কর্মীদের পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। ঘটনায় তীব্র ক্ষুব্ধ অধীর চৌধুরী। তিনি তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "তৃণমূল এখন হিংসার আশ্রয় নিচ্ছে। মানুষকে হাওয়া দেওয়া বা সৌজন্য দেখানোও কি এখন অপরাধ?"
অধীর রঞ্জন চৌধুরী এও বলেন, "আমি দাবী করছি না এরা কেউ কংগ্রেসের লোক। আমি বলছি এরা সাধারণ মানুষ, কংগ্রেসের লোক নয়। তাঁদের ওপর কেন হামলা হবে?" তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় কিছু গুন্ডা, তৃণমূল ও পুলিশের মদতে যা খুশি এখানে করছে।" অধীর বলেন, "আমি এঁদের পাশে থাকব। পালিয়ে যাওয়ার লোক আমি নই।"
সেই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, "এলাকার মানুষ সঙ্ঘবদ্ধ হন। ঘরে ঘরে লাঠি বল্লম নিয়ে আপনারা প্রস্তুত থাকুন। দুর্বৃত্তরা আসলে পাল্টা আক্রমণে নামুন। না হলে বাঁচার কোনও রাস্তা নেই আমাদের। আমরা আপনাদের সঙ্গে থাকব।" অধীরের দাবী, 'এখানে প্রশাসন বলে কিছু নেই। নিচু তলার পুলিশ যারা আছে সব এদের দালালি করে। স্থানীয় পুলিশ এখনূ তৃণমূলের দালালি করছে।'
তিনি বলেন, বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে, আমরা পুলিশকে বলব এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এদিকে ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment