ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৫ এপ্রিল ২০২৬: রাঘব চাড্ডা-সহ আম আদমি পার্টির সাতজন দলত্যাগ করেছেন। এরপরেই প্রকাশ্যে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। আপের পাশাপাশি রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটও এই দলত্যাগের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, বিজেপি তাঁর এবং শচীন পাইলটের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি করতে চায় কিন্তু এই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি পাইলটের বিরুদ্ধে মুখ খুলবেন না। অশোক গেহলট বলেন, 'বিজেপি তাদের কার্যকলাপ থেকে বিরত হবে না। তারা ক্রমাগত দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করে চলেছে। সবার সামনে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ছে, এটা মানতে হবে।'
তিনি বলেন, 'সমস্ত সংস্থা এদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সম্প্রতি সংসদ সদস্য মিত্তালের ওপর অভিযান চালানো হয়েছে। বিজেপি এর আগে রাঘব চাড্ডাকে হয়রানি করেছিল এবং দলত্যাগকারী অন্য সাংসদদের মদনীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছিল। সুতরাং, তারা তাঁদের এই নীতিতে নিশ্চয়ই খুব খুশি।'
শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "সারা দেশ দেখছে যে, কী ঘটছে আর মোদী ও অমিত শাহের ভ্রম হয়েছে। এখন তাঁদের ভ্রম ভাঙবে। সারা দেশের মানুষ বুঝে গেছেন যে, এঁরা হিন্দুত্বের নামে রাজনীতি করেন। হিন্দুত্বকে মজবুত করার জন্য কী কাজ করেছেন? উস্কানি ছাড়া আর কী করেছেন? আর এখন দেখুন আজ এই ঘটনা ঘটেছে, কম ঘটনা কি?" তিনি আরও বলেন, "ওয়াশিং মেশিন লাগানো রয়েছে, সব একদম ঠিক হয়ে যাবে। কারও বিরুদ্ধে কোনও মামলাই থাকবে না। এই ওয়াশিং মেশিন যা ধরে রেখেছেন, এঁরা মহারাষ্ট্রে কংগ্রেসের লোককে ভেঙেছেন, কর্ণাটকে, মধ্যপ্রদেশে এখানেও খামতি রাখেননি।'
দলীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে গেহলট বলেন যে, বিজেপি যতই চেষ্টা করুক না কেন, দলের নেতারা ঐক্যবদ্ধ। তিনি বলেন, "এরা বারবার ভজনলাল আর মদন রাঠোর বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তাঁরা চায় আমি শচীন পাইলটের নাম নিই, যে লোকেরা মানেসরে গিয়েছিলেন। তাঁরা চায় নাম নিলেই এঁদের লড়াই শুরু শুরু হয়ে যাবে। আমি তাঁদেরই দোষ দিই। আপনারা কতজনের সাথে ঘোড়া বেচাকেনা করেছেন বলুন। রাজস্থানের মানুষকে কি ছেড়েছেন? আমরা তো ঐক্যবদ্ধ।"
গেহলট আরও বলেন, "ওদের জিজ্ঞেস করুন, রাজস্থানের ভেতরে কি কোনও খামতি ছেড়েছেন? এঁদের কুকর্মের জন্য আমরা ৩৪ দিন হোটেলে কাটিয়েছি। বিজেপি নেতারা যাঁরা ছিলেন, মানুষ কি বোঝেন না? ঠিক আছে, আমরা নির্বাচনে হেরেছি। প্রধানমন্ত্রী মোদী আর অমিত শাহ অনেক মিথ্যা বলেছেন। তাঁরা আমাদের বিরুদ্ধে ৫ লক্ষ, ৫০ লক্ষ টাকার মিথ্যা অভিযোগও করেছেন। নির্বাচনে জেতা এক জিনিস, কিন্তু এই লোকগুলো যে তামাশা করছেন, সেটা কোথায় হচ্ছে না! পশ্চিমবঙ্গে কী হচ্ছে তা সবাই দেখছে। এঁদের গণতন্ত্রে বিশ্বাস নেই, আর যদি সমস্ত নতুন প্রজন্ম দেশকে না বোঝে, দেশের মানুষ না বোঝেন, তাহলে সবাইকে ভুগতে হবে।"

No comments:
Post a Comment