ইভিএম স্ট্রংরুমে সিসিটিভি বিভ্রাট! পুলিশকে গালিগালাজ বায়রনের, চক্রান্তের দাবী তৃণমূল প্রার্থীর - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, April 25, 2026

ইভিএম স্ট্রংরুমে সিসিটিভি বিভ্রাট! পুলিশকে গালিগালাজ বায়রনের, চক্রান্তের দাবী তৃণমূল প্রার্থীর


মুর্শিদাবাদ: রাজ্যে প্রথম দফা নির্বাচন শেষ হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। বুধবার ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোট এবং আগামী ৪ মে ভোট গণনা। এরই মাঝে শনিবার ভোরবেলা ব্যাপক চাঞ্চল্য মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে। এদিন ভোরে জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজের ইভিএম স্ট্রংরুমের সামনে গিয়ে ব্যাপক হাঙ্গামা করার অভিযোগ উঠল সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এমনকি সেখানে পুলিশ আধিকারিকদের গালিগালাজের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। 


জানা গিয়েছে, জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজে ফারাক্কা, শামশেরগঞ্জ, সুতি, রঘুনাথগঞ্জ, জঙ্গিপুর এবং সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুম করা হয়েছে। আর সেখানে গিয়েই অশান্তি পাকানোর অভিযোগ বায়রনের বিরুদ্ধে।


অন্যদিকে, তৃণমূলকে হারাতে গভীর চক্রান্তের অভিযোগ করেছেন বায়রন। তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাসের অভিযোগ, রাত প্রায় ১০টার দিকে তিনি স্ট্রংরুম পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন, ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো থাকলেও, সেগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য বাইরে কোনও স্ক্রিন নেই। বিষয়টি জঙ্গিপুর মহকুমা আধিকারিকদের নজরে আনলে প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে পর্যবেক্ষণের জন্য স্ক্রিনও বসিয়ে দেয়।


কিন্তু এরপরেই বাঁধে আরও গণ্ডগোল। বায়রনের দাবী, রাতে দফায় দফায় সিসিটিভি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। 

অভিযোগ, সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি মাঝেমধ্যেই কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছে। বিষয়টি নজরে আসতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন তিনি এবং সেখানে গিয়ে দেখেন, ক্যামেরার পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ আলোও বন্ধ ছিল। এই পরিস্থিতি দেখে কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছে কৈফিয়ত তলব করেন তিনি। কিন্তু, তাতেও সদুত্তর না মেলায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিধায়ক।


বায়রন বিশ্বাসের দাবী, তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের পরিকল্পিত ভাবে হারানোর জন্য এটি একটি গভীর চক্রান্ত। তিনি বলেন, 'গভীর রাতে বার বার কেন ক্যামেরা বন্ধ হবে? কেনই বা দীর্ঘক্ষণ আলো নিভিয়ে রাখা হয়েছিল? বিষয়টি নিয়ে আধিকারিকদের জানানোর পরেও কেন দ্রুত সমাধান করা হয়নি? আমাদের হারানোর জন্যই এই কৌশল।'


পাশাপাশি স্ট্রং রুমের দায়িত্বে থাকা নির্বাচনী আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের একাংশ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই ঘটনায় কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

 

এদিন ভোর প্রায় ৪ টা নাগাদ ক্যাম্পাসে ফেরেন বায়রন এবং স্ট্রংরুমে ঢোকার অনুমতি চাইতে থাকেন।

কিন্তু নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ তাঁকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। অভিযোগ, এরপরেই গেটের বাইরে দাঁড়িয়েই রাজ্য পুলিশকে গালিগালাজ করা হয়। তৃণমূল নেতার সঙ্গে থাকা লোকেরা দীর্ঘক্ষণ ধরে শোরগোল করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরাও সতর্কতা বাড়িয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর ওই এলাকা থেকে ফিরে আসেন বায়রন বিশ্বাস।


অন্যদিকে জঙ্গিপুরের মহকুমা শাসক সুধীর কুমার রেড্ডি বলেন, রাতে সাগরদিঘির প্রার্থী স্ট্রংরুমের ভিতরে নিয়ে যাওয়ার দাবী তুলছিলেন । কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। কমিশনের নির্দেশ মেনে আমি স্ট্রং রুমের বাইরেও সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে দিয়েছি, যাতে বাইরে থেকে দেখা যায়। এখন ওয়াই ফাই-এর মাধ্যমে সিসিটিভি ক্যামেরা চলছে। তবে, সেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কিছু সময়ের জন্য ওয়াই ফাই বন্ধ ছিল। এটা প্রশাসনের গাফিলতি নয়। তা সত্ত্বেও রাতে এসে ওই প্রার্থী কিছু অন্যায় আবদার করেন। আমরা সেটা মানতে পারিনি।'


এদিকে এই ঘটনা ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad