বীরভূম: প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ চলছে। বিভিন্ন জেলা থেকে একাধিক অশান্তির খবর মিলেছে। কোথাও আক্রান্ত হয়েছেন পোলিং এজেন্ট তো কোথাও প্রার্থী নিজেই। এবারে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপরে চড়াও হলেন একদল জনতা। জওয়ানদের লক্ষ্য করে উড়ে এল ইটের বড়-বড় টুকরো। পরিস্থিতি সামলাতে পিস্তল বের করতে হল পুলিশকে। ঘটনাস্থল বীরভূমের দুবরাজপুর। অভিযোগ, এখানকার খয়রাশোল ব্লকের একটি গ্ৰামে স্থানীয় একদল মানুষ কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপরে চড়াও হন। জওয়ানদের লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় ইট-পাথর। এতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েকজন জওয়ান আহত হয়েছেন।
জানা যায়, ইভিএম মেশিনে গন্ডগোলের জেরে প্রায় আধ ঘন্টা ভোট বন্ধ রাখা হয়। অভিযোগ ওঠে, দুবরাজপুর বিধানসভার খয়রাশোল ব্লকের বুধপুর গ্রামের ৬৫ নম্বর বুথে ইভিএমে তৃণমূলের প্রার্থীর জন্য নির্দিষ্ট বোতামে চাপ দিলে বিজেপি প্রার্থীর পক্ষে ভোট পড়ছে। এই কারণেই ভোট বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে খন্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়।
ভোটারদের অভিযোগ, বেশকিছু ভোটদানের পর বিষয়টি ধরা পড়ে। ভোটারদের দাবী, তৃণমূলের প্রার্থীর বোতামে চাপ দিলেও বিজেপি প্রার্থীর পক্ষে ভোট পড়ছে। ব্যাপারটি নিয়ে রীতিমতো শোরগাল পড়ে যায়। ভোটাররাও চরম ক্ষুব্ধ হোন। তারপর ভোট কর্মীদের বলে ভোটদান বন্ধ করিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়।
এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে ভোটারদের তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। পরিস্থিতি মুহুর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এই সময় একদল বিক্ষুদ্ধ জনতা বাহিনীর উপর চড়াও হয়, জওয়ানদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুঁড়তে শুরু করেন তাঁরা। জওয়ানরা লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে গেলেও ইট-পাথর ছোড়া চলতেই থাকে। এতে জখম হয়েছেন কয়েকজন জওয়ান, গাড়ির চালক। এক জওয়ানের গাল ফেটে রক্ত বেরোতেও দেখা যায়। বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। এমনকি পুলিশের গাড়িতেও ভাংচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। বেগ পেতে পিস্তল বার করতে হয় পুলিশকে। এরপর কিছুটা শান্ত হয় পরিবেশ। শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত, বিকেল প্রায় সাড়ে চারটে নাগাদ ওই কেন্দ্রে আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
তবে এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছেন। ভোটকেন্দ্রের বাইরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অশান্তি চিহ্ন; ইট পাথরের টুকরো, গাড়ির ভাঙা কাঁচ।

No comments:
Post a Comment