প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৫০:০১ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ শনিবার রাতে আবারও জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন। তাঁর বক্তব্য রাত সাড়ে আটটায় সম্প্রচারিত হবে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কথা বলতে পারেন এবং এ বিষয়ে বিরোধীদের অসহযোগিতাকে তুলে ধরে সমালোচনা করতে পারেন। এর আগে টানা দুই দিনের আলোচনার পর বিরোধীদের বিরোধিতার কারণে শুক্রবার লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাশ হতে পারেনি।
মহিলা সংরক্ষণ ২০২৯ সাল থেকে কার্যকর করা এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কের পর ভোটাভুটিতে বিলটি খারিজ হওয়ার পর শনিবার জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। বিরোধীরা একে কেন্দ্রের ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়েছে, অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি বিরোধীদের কড়া আক্রমণ করেছে।
বিলকে ঘিরে শাসক ও বিরোধীদের তীব্র সংঘাত তৈরি হয়েছে। বিজেপি এই বিল খারিজ হওয়াকে ‘কালো দিন’ বলে উল্লেখ করে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে নারীদের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে কংগ্রেস ও তাদের সহযোগী দলগুলি বলেছে, ২০২৩ সালে পাশ হওয়া মহিলা সংরক্ষণ আইন অবিলম্বে কার্যকর করা উচিত এবং সরকার এই বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, কংগ্রেস ও বিরোধীদের দেশের নারীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে, কারণ তারা নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। তাঁর মতে, এই বিল নারীদের ঐতিহাসিক প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার জন্য ছিল, এতে আপত্তির কোনো কারণ ছিল না।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শোভা করন্দলাজে লোকসভায় বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী-কে আক্রমণ করে বলেন, বিরোধীদের এই সিদ্ধান্ত নারী ক্ষমতায়ন এবং আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব—দুটিকেই দুর্বল করেছে। তিনি দাবি করেন, এর ফলে দক্ষিণ ভারতেরও ক্ষতি হয়েছে, যেখানে আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার কথা ছিল এবং নারীরা সংরক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
বিজেপি সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের বিরুদ্ধে নারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে বিরোধী নেতারা দাবি করেছেন, কেন্দ্র সরকার পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক লাভের জন্য এই বিষয়টি ব্যবহার করছে এবং বাস্তবায়নে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করছে।
কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা কেন্দ্রকে আক্রমণ করে বলেন, এই বিলটি ছিল দেশের ফেডারেল কাঠামো বদলের একটি পরিকল্পনা, আর এর খারিজ হওয়া সংবিধান ও বিরোধী ঐক্যের বড় জয়। তিনি বলেন, সরকার চাইলে ২০২৩ সালের নারী শক্তি বন্দনা আইন বর্তমান ৫৪৩টি আসনের ভিত্তিতে অবিলম্বে কার্যকর করতে পারে এবং করলে পুরো বিরোধী শিবির সমর্থন করবে।
কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর বলেন, বিরোধীরা মহিলা সংরক্ষণের বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু এটিকে সীমা পুনর্নির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করার বিরোধিতা করছে।
সমাজবাদী পার্টির নেতা রাম গোপাল যাদব প্রশ্ন তোলেন, ২০২৩ সালেই যখন এই ঐতিহাসিক আইন পাশ হয়েছে, তখন নতুন করে সংশোধনের প্রয়োজন কী ছিল। তাঁর মতে, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও এই বিল আনা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।

No comments:
Post a Comment