প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৪৫:০১ : হরমুজ প্রণালী অবশেষে পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, এখন সব জাহাজ নির্বিঘ্নে হরমুজ দিয়ে চলাচল করতে পারবে। লেবাননে যুদ্ধবিরতির পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন আক্রমণের প্রভাব ঠেকাতে ৬ মার্চ ইরান হরমুজ পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। এই ঘোষণার পর মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প-ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খোলা হলেও ইরানকে ঘিরে নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর থাকবে। ইরানের সঙ্গে সব লেনদেন সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালু থাকবে। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হওয়া উচিত, কারণ বেশিরভাগ বিষয়েই ইতিমধ্যে আলোচনা হয়ে গেছে।
আপাতত সব জাহাজ চলাচল করতে পারবে
এর আগে আরাঘচি জানান, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সব বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ দিয়ে সহজেই যাতায়াত করতে পারবে। ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার নির্ধারিত পথে সব জাহাজ চলাচল করবে।
কেন হরমুজ খুলল ইরান?
১. দুই দিন আগে ট্রাম্প হরমুজ থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা বলেন। তিনি জানান, চীনের সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ইরানও এতে সম্মত হয়েছে।
২. যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করতে ইরানের উপর চাপ বাড়ছিল। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, হরমুজ না খুললে যুদ্ধবিরতির আলোচনা এগোবে না। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
৩. হরমুজ খোলার জন্য আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ছিল। প্যারিসে প্রায় ৪০টি দেশের বৈঠকের প্রস্তুতি চলছিল, যেখানে ফ্রান্স ও ব্রিটেনসহ একাধিক দেশের নেতৃত্ব অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এত দেশের সঙ্গে একসঙ্গে বিরোধে জড়াতে চায়নি ইরান।
৪. ওমান প্রণালী দিয়ে চলাচলের উপর কর বসানোর প্রস্তাব আগেই খারিজ করা হয়েছিল। প্রাকৃতিক পথ ব্যবহারের জন্য কর আরোপের বিরোধিতা করা হয়, ফলে ইরানের উপর চাপ আরও বেড়ে যায়।
হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝের একটি সংকীর্ণ জলপথ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক এবং বাহরাইন এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল বিশ্ববাজারে পাঠায়। প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ পথটির উপর ইরানের প্রভাব রয়েছে।

No comments:
Post a Comment