প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৪৩:০১ : ইরান হরমুজ প্রণালীকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজে আমেরিকার অবরোধ জারি থাকবে। এরপর তিনি ন্যাটোর উপর আবারও তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, এখন যখন হরমুজ খুলে দেওয়া হয়েছে, তখন সাহায্যের জন্য ন্যাটোর ফোন এসেছে, কিন্তু তিনি তাদের দূরে থাকতে বলেছেন। তাঁর দাবি, ন্যাটো একটি “কাগুজে বাঘ”।
নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ করা এক পোস্টে ট্রাম্প ন্যাটোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “এখন যখন হরমুজ প্রণালী নিয়ে সমস্যা মিটে গেছে, তখন ন্যাটো আমার কাছে সাহায্যের জন্য ফোন করেছে। আমি তাদের স্পষ্টভাবে বলেছি, তারা যেন দূরে থাকে। তারা শুধু নিজেদের জাহাজে তেল ভরতে চায়। যখনই দরকার পড়ে, তারা আমাদের কাজে আসে না। তারা কেবল কাগুজে বাঘ।”
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ট্রাম্প ন্যাটো নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। তিনি বারবার ন্যাটো দেশগুলিকে প্রতিরক্ষা খরচ বাড়ানোর জন্য চাপ দিয়েছেন। ইউক্রেনকে সাহায্যের ক্ষেত্রেও তিনি ন্যাটো দেশগুলোর উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক থাকলেও, পরে তিনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমেরিকার দাবি জানিয়ে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটান।
এর ফলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী, জার্মানির চ্যান্সেলর এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সহ একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ট্রাম্প ন্যাটোকে “কাগুজে বাঘ” এবং ইরানে সাহায্য না করার জন্য “ভীতু” বলেও সমালোচনা করেন।
পরে, হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য যখন ট্রাম্প ন্যাটো দেশগুলোর সাহায্য চান, তখন ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলি জানায়, এই সংঘাত শুরু করার আগে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এতে ট্রাম্প আরও ক্ষুব্ধ হন এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে বের করে নেওয়ার হুমকিও দেন।
ন্যাটো নিয়ে ট্রাম্পের বিরোধ আরও বাড়ে, যখন তিনি নিজের একটি ছবি ধর্মীয় রূপে প্রকাশ করেন এবং পোপ লিও সম্পর্কে মন্তব্য করেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রীর প্রতিবাদ করলে ট্রাম্প তাঁকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। এর ফলে ইউরোপ ও আমেরিকার সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে।
অপারেশন সিন্দুরের পর ভারত যখন ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করতে অস্বীকার করে, তখন থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। ইরান সংঘাতের সময়ও পাকিস্তান ট্রাম্পকে সহযোগিতা করে। ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা হলেও তা সফল হয়নি। এখন ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার পর ট্রাম্প পাকিস্তানকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে সহায়তার জন্য সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারকেও ধন্যবাদ জানান।
No comments:
Post a Comment