প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪২:০১ : ছত্তীশগড়ের শক্তি জেলায় একটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় ১০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ১৫ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই প্রবল ছিল যে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত শোনা যায়। ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
একজন পুলিশ আধিকারিক জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ডভরা থানার অন্তর্গত সিংঘীতরাই এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ চলাকালীন প্রায় দুপুর ২টার সময় হঠাৎ করে বয়লারে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ১০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং ১৫ জন গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দমকল, পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
ঘটনার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কর্মীরা প্রাণ বাঁচাতে এদিক-ওদিক ছুটতে থাকেন। আহতদের উদ্ধারে দ্রুত তৎপরতা শুরু হয়। জানা গেছে, প্রথমে একটি নল অংশে বিস্ফোরণ ঘটে, এরপর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া ও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধার কাজে বাধা সৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। অ্যাম্বুলেন্স ও দমকল বাহিনী দ্রুত পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘন ধোঁয়া ও আগুনের কারণে উদ্ধারকাজে ব্যাপক অসুবিধা হয়। আহতদের তড়িঘড়ি করে রায়গড়ের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটজনক।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ছত্তীসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সায়। তিনি বলেন, শক্তি জেলার সিংঘীতরাই এলাকার ‘বেদান্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রে’ বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। তিনি মৃতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ছত্তীশগড়ের বলোদাবাজার জেলাতেও একই ধরনের একটি দুর্ঘটনা ঘটে। ভাটাপাড়া গ্রামীণ থানার অন্তর্গত বকুলাহি গ্রামের একটি ইস্পাত কারখানায় হঠাৎ বিস্ফোরণে বিহারের ৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েকজন গুরুতরভাবে আহত হন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নিরাপত্তা বিধি মানা না হওয়ায় ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। কাজের সময় ভাট্টি বন্ধ না করেই শ্রমিকদের বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ করানো হয়েছিল। পাশাপাশি ধুলো নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দরজা বন্ধ রাখা হয়নি এবং যথাযথ নির্দেশ ছাড়াই কাজ চলছিল। পরবর্তীতে তদন্তে বড় ধরনের নিরাপত্তা গাফিলতি ধরা পড়ায় কারখানার সব কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

No comments:
Post a Comment