বাঁদর মারতে রাখা বিষ মেশানো লাড্ডু খেয়ে মৃত্যু শিশুর, শোকের ছায়া পরিবারে - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, April 14, 2026

বাঁদর মারতে রাখা বিষ মেশানো লাড্ডু খেয়ে মৃত্যু শিশুর, শোকের ছায়া পরিবারে


ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৪ এপ্রিল ২০২৬: বাঁদরের জন্য রাখা হয়েছিল বিষ মেশানো লাড্ডু আর সেই বিষাক্ত লাড্ডু মুখে দিতেই ভয়াবহ পরিণতি ক্ষুদের। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে বাড়ির একমাত্র ছেলে। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার মুলুগু জেলায়। বিষাক্ত লাড্ডু খেয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই শিশুর। তাঁর বয়স মাত্র চার বছর। বাঁদর মারার জন্য লাড্ডুটিতে বিষ মেশানো হয়েছিল। আর ভুলবশত শিশুটি এই লাড্ডু খেয়ে ফেলে। ঘটনায় শোকে মূহ্যমান গোটা পরিবার।


ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (১২ এপ্রিল, ২০২৬) গোবিন্দরাওপেট মণ্ডলের এনটিআর কলোনিতে। শিশুটির বাবার নাম শ্রাবণ। তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ তিন সন্তান রয়েছে। শিশুরা তাদের বাড়ির সামনেই খেলছিল। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার বছর বয়সী অশ্বিনী নন্দন সেখানে লাড্ডুর মতো একটি জিনিস পড়ে থাকতে দেখে এবং সেটি বাড়িতে নিয়ে আসে। 


অভিযোগ বাঁদর মারার জন্য লাড্ডুটিতে বিষ মেশানো হয়েছিল। খেলার সময় অশ্বিনী নন্দন লাড্ডুটি খেয়ে ফেলে, কিন্তু অন্য শিশুরা কিছু একটা ভুল বুঝতে পেরে সেটি ফেলে দেয়। বিষাক্ত সেই লাড্ডু খাওয়ার পরপরই শিশুটির স্বাস্থ্যের অবনতি হতে শুরু করে। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত এমজিএম হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু ডাক্তারদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মাত্র চার বছর বয়সে শিশুটির হৃদস্পন্দন থেমে যায়। শিশুটির মৃত্যুতে বিধ্বস্ত গোটা পরিবার। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা শোকে পাথর। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁদর মারার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মচারীরা বিষাক্ত পদার্থ মেশানো লাড্ডু রেখেছিলেন। তাঁদের কথায়, বাঁদরের উপদ্রব কমাতে করা এই পদক্ষেপটি ছিল অবহেলামূলক এবং এর মূল্য একটি নিষ্পাপ শিশুকে তাঁর জীবন দিয়ে দিতে হল।


এই ঘটনায় পশুপ্রেমী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা বলছেন, পশু মারার জন্য এমন বিপজ্জনক পদ্ধতি ব্যবহার করা অন্যায় এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করে বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে। কারা এবং কী পরিস্থিতিতে সেখানে এই বিষাক্ত পদার্থটি রেখেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।


তবে, এই ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল অবহেলা এবং অসতর্কতার কতটা মারাত্মক পরিণতি হতে পারে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad