কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতার জনসভায় বিভ্রাট। অনুমতি থাকা সত্ত্বেও মিটিং না করতে দেওয়ার অভিযোগ। অভিযোগের আঙুল বিজেপির দিকে। কয়েক মিনিট বক্তব্য দিয়েই মঞ্চ ছাড়েন মমতা। উপস্থিত জনগণের কাছে ক্ষমা চাইবার পাশাপাশি এর প্রতিবাদে ভোট দিতে হবে বলে বার্তা তৃণমূল সুপ্রিমোর।
শনিবার ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া রোডে (উত্তর) স্বামী নারায়ণ মন্দিরের কাছে নির্বাচনী জনসভা ছিল মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু তিনি মাইক হাতে বলতে শুরু করলেই অন্যদিক থেকে ভেসে আসে মাইকের তীব্র আওয়াজ। মমতার সভার অদূরেই বিজেপি মাইকিং শুরু করে বলে অভিযোগ। কিছুক্ষণ চুপ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, "কেন করবে এটা? ইলেকশনের কতগুলো রুলস আছে। তা হলে ওরাও যেদিন মিটিং করবে তোমরা পাল্টা লাগিয়ে দেবে। তখন পুলিশ তুলতে আসলে, মেয়েদের ধরে এফআইআর করবে।"
তিনি বলেন, "এটা পার্শিয়ালিটি।” এরপর এক সেকেন্ড সময় চেয়ে নিয়ে মঞ্চ থেকেই কাউকে একটা ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী। কিছুক্ষণ কথা বলতেও দেখা যায় তাঁকে। বেশ রাগী মেজাজে দেখা যায় সেই সময় মমতাকে। এরপরেই মাইক হাতে তিনি বলেন, "এটা মিটিং আমার পক্ষে করা সম্ভব বলুন তো! পারমিশন নিয়ে। এবার আপনারা বলুন। সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছেন। আমি সব অফিশিয়াল পারমিশন নিয়েছি। তারপরে আপনারা দেখুন, এই অ্যাটিটিউড। ওরা কি করছে! পশ্চিমবঙ্গকে জোর করে দখল করতে চাইছে। এটা ঠিক নয়। ওরা যদি এটা আমার কেন্দ্রে করতে পারে... আমি এখানে এক মাস ছিলাম না। আমি রাজ্যে ঘুরছিলাম ২০০ আসনের জন্য প্রচার করছিলাম। অভিষেকও প্রায় ১০০ আসনের জন্য প্রচার করছে।"
মমতা বলেন, "তাঁরা যদি এমন আচরণ করেন, তা হলে আমি দুঃখিত আমাকে আমার আইনি পদক্ষেপ করতে হবে এবং আমি সেটা করব। তাহলে বুঝতে পারছেন, পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করার; এই দেখুন, সামনে চিৎকার করছে, যাতে আমি মিটিংটা করতে না পারি।"
উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "মা-ভাই-বোনেরা আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি আপনাদের সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি কালকে এখানে র্যালি করে দেব। আমি এই অসভ্যতামিটা করতে পারব না। এটা খুব অপমানজনক। এটা খুব হিউমিলেশন। আমি আপনাদের নমষ্কার জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি। আমায় ক্ষমা করবেন।"
তাঁর আবেদন, "যদি পারেন, ভোটটা আমায় দেবেন। আমার সিম্বল নং দুই। কিন্তু এর প্রতিবাদে আপনাদের ভোটটা দিতে হবে। আমাকে মিটিং করতে পর্যন্ত দিচ্ছে না। আমি পারমিশন নিয়েছি অফিশিয়ালি, তা-ও।” এরপরেই মঞ্চ ছাড়েন মমতা।
এই ঘটনায় বিজেপির প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে, নির্বাচনের আবহে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ যে বাড়ল, সেকথা বলা যেতেই পারে। জল এখন কোন দিকে গড়ায়, সেটাই দেখার।

No comments:
Post a Comment