কলকাতা: উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট আইপিএস অজয় পাল শর্মা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের। ফলতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন একজন মহিলা। বাড়িতে জোর করে প্রবেশ এবং মহিলাদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এমনকি শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
ওই মহিলার অভিযোগ, সোমবার রাতে তাঁর বাড়িতে কয়েকজন প্রবেশ করে নিজেদের সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স বলে পরিচয় দেয়। এরপর তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়। আদালতের কোনও নির্দেশ ছাড়া তাঁদের বাড়িতে এসেছিল সেই ব্যক্তিরা।
মহিলার দাবী, তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়, চলে মারধরও। এমনকী শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগও এনেছেন তিনি। অভিযোগ পত্রে তিনি জানান, তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, বিজেপিকে ভোট দিতে হবে আর অন্য কোনও দলকে ভোট দিলে পরিণতি ভালো হবে না।
এরপরই দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষকের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। তাঁর দাবী, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার ভূমিকা খতিয়ে দেখা দরকার। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, 'ঘটনার সময় উপস্থিত প্রশাসনিক দায়িত্বে ও তদারকির বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা প্রয়োজন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক, যিনি নির্বাচনের সময় দায়িত্বে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার তদারকিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, তাঁর ভূমিকা ও উপস্থিতি সম্পর্কেও তদন্ত করা উচিৎ। ঘটনার নির্দেশনা, সমর্থন বা প্রভাবের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করা আবশ্যক।'
একটি ভিডিওর জেরে অজয় পাল শর্মা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। সোমবার ওই তাঁর ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসে, যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি প্রেসকার্ড নিউজ। সেখানে তাঁকে হুঁশিয়ারি দিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আনতে শুরু করে রাজ্যের শাসক দল।
এই পর্বে মঙ্গলবার, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মার ওপর তীব্র আক্রমণ করে বলেন, "তিনি এই খেলা শুরু করেছেন, কিন্তু আমরা এর শেষ করব। ছবিটা এখনও বাকি, বন্ধুরা। যদি আপনারা ভাবেন যে কয়েকজন সিআরপিএফ জওয়ানকে দিয়ে পার পেয়ে যাবেন, তাহলে আপনারা ভুল করছেন। এখানকার আসল শক্তি হল জনগণ। জনগণ যদি একসাথে হাঁটতে শুরু করে, আমরা সিআরপিএফকে নিশ্চিহ্ন করে দেব।" জাহাঙ্গীর খান আরও যোগ করেন যে, এখানকার মানুষ যদি হাঁটতে শুরু করে, তাহলে সিআরপিএফের লোক হাওয়ায় উড়ে যাবে।
উল্লেখ্য, অজয় পাল শর্মা হলেন উত্তরপ্রদেশের একজন সুপার কপ এনকাউন্টার বিশেষজ্ঞ। তাঁর সম্পর্কে বলা হয় যে, তাঁকে যেখানেই পোস্টিং দেওয়া হয়, অপরাধীরা নিজেরাই তাদের জামিন বাতিল করার জন্য জেলে পৌঁছে যায়। অজয় পাল শর্মাকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের অন্যতম সেরা আইপিএস অফিসার হিসেবে গণ্য করা হয়। বিভিন্ন জেলায় পোস্টিংকালে অজয় পাল শর্মা কয়েক ডজন এনকাউন্টার করেছেন এবং ভয়ঙ্কর অপরাধীদের শ্রীঘরে পাঠিয়েছেন। তাঁর শারীরিক সক্ষমতা এবং অপরাধের প্রতি শূন্য সহনশীলতার কারণে তাঁকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের 'সিংঘম'ও বলা হয়। পাঞ্জাবের লুধিয়ানার বাসিন্দা অজয় পাল শর্মা ২০১১ ব্যাচের একজন আইপিএস অফিসার। এবারে বাংলায় নির্বাচনের জন্য কমিশন তাঁকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছে।

No comments:
Post a Comment