কলকাতা: রাত পোহালেই বঙ্গে দ্বিতীয় দফায় ভোট। এই পর্বে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর। নির্বাচন ঘিরে আঁটোসাঁটো ব্যবস্থা কমিশনের। আর ভোটের একদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা তথা ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে কারচুপির জন্য এক বিশেষ ধরণের কৃত্রিম আঙুলের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। তিনি এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার দাবী জানিয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারী দাবী করেছেন যে, প্রথম দফার ভোটগ্রহণের সময় নকল আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে ভোট চুরির চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তারা হাতে-নাতে ধরা পড়ে। তিনি বলেন, "আমরা তাদের এটা করতে দেব না। তারা ভোট চুরির জন্যই আঙুলের আবরণ কিনেছিল।"
বিজেপি নেতা আরও বলেন, "ভবানীপুরের একজন কাউন্সিলর এই ধরনের ৭৫০টি আঙুলের দস্তানার অর্ডার দিয়েছিলেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, ওই এলাকার এক কাউন্সিলর প্রায় ৭৫০টি আঙুলের কভার অর্ডার দিয়েছেন। এগুলি ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার পর কালি লাগানো আঙুল ঢেকে ফেলা হবে, যাতে আবার ভোট দেওয়া যায়।
তিনি আরও দাবী করেন, ভবানীপুরে প্রায় ৩৮১০টি ভোটার স্লিপ ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা কারচুপির ইঙ্গিত দিচ্ছে। শুভেন্দু বলেন, "ভুয়ো ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরি করে ভোটচুরি করার চেষ্টা করছে তৃণমূল। হাতে-নাতে ধরা পড়ে গিয়েছে ওরা।" তিনি ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং এফআইআর দায়েরের আর্জি জানিয়েছেন। তিনি এও দাবী করেন, এই বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় নিশ্চিত।
তিনি বলেন, "শেষ ভোট গণনা হওয়া পর্যন্ত আমি অপেক্ষা করব।" এরপর তৃণমূল কংগ্রেসকে লেজ গুটিয়ে পালাতে কীভাবে বাধ্য করতে হয়, তা আমি ঠিক জানি।" তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং এফআইআর করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি ভবানীপুরের জনগণের কাছেও আবেদন করেছেন।
এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী ২৯শে এপ্রিল ভোট দিয়ে জবাব দিতে বলেছেন। তিনি আরও বলেন যে, এই অভিযোগ সত্ত্বেও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ হবে। এর আগে, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করে বলেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে হবে।
তাঁর মতে, দুর্নীতিগ্রস্ত ও অযোগ্য তৃণমূল শাসনের অধীনে বাংলা বছরের পর বছর ধরে ভুগেছে, যে শাসন জনগণের চেয়ে সিন্ডিকেট শাসনকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। তিনি জনগণের কাছে আবেদন করে বলেছেন যে, বিজেপিকে দেওয়া একটি ভোট হবে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, নারী ক্ষমতায়ন, কৃষক এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য।
তিনি লিখেছেন যে, ক্ষমতা থেকে নিপীড়কদের উৎখাত করে এমন একটি পশ্চিমবঙ্গ গড়ার সময় এসেছে যেখানে মেধার কদর হবে এবং আইনের শাসন বিরাজ করবে। তিনি ভোটারদের কাছে ২৯শে এপ্রিল ইভিএম-এ পদ্ম চিহ্নে চাপ দিয়ে বিজেপিকে নির্বাচিত করার জন্য আবেদন করেছেন।
অন্যদিকে, শুভেন্দুর এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছে জোড়াফুল শিবির। তৃণমূলের দাবী, হারের ভয়েই এখন অদ্ভুত সব অজুহাত দিচ্ছে বিজেপি। কাউন্সিলর নিজে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর পালটা দাবী, "বিজেপি এখন মানুষের মন থেকে মুছে গিয়েছে। তাই মানুষের রায়কে ভয় পেয়ে এসব অবান্তর গল্প ফাঁদছে।"
প্রসঙ্গত, ভবানীপুর এবারে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র। আর লড়াইয়ে নামার ঠিক আগেই শুভেন্দুর এই 'নকল আঙুল' তত্ত্ব রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ করে কি না, সেটাই এখন দেখার।

No comments:
Post a Comment