ন্যাশনাল ডেস্ক, ২১ এপ্রিল ২০২৬: নির্বাচনের উত্তাপের মাঝেই শালীনতার মাত্রা ছাড়াচ্ছে নেতা-নেত্রীদের মুখের ভাষার। এই তালিকায় নাম জুড়ল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকাকর্জুন খাড়গের। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে সন্ত্রাসবাদী বলে আক্রমণ শানালেন খাড়গে। চেন্নাইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সন্ত্রাসবাদী বলে অভিহিত করেন। কংগ্রেস সভাপতি বলেন যে, মোদী একজন সন্ত্রাসী এবং তাঁর দল সমতার নীতিতে বিশ্বাস করে না।
খাড়গে বলেন, এআইএডিএমকে গণতন্ত্রকে দুর্বল করছে এবং পেরিয়ার ও আম্বেদকরের নীতির বিরুদ্ধে কাজ করছে। যদিও পরবর্তীতে খাড়গে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, "আমি সন্ত্রাসী বলিনি, আমি বলেছি তিনি আতঙ্কিত করছেন।"
কংগ্রেস সভাপতি বলেন, "আমি এটা স্পষ্ট করতে চেয়েছিলাম যে, মোদী সবসময় হুমকি দেন। আমি আপনাদের ক্রম বলেছি, আয়কর বিভাগ, ইডি। এই সমস্ত সংস্থা তাঁর হাতে। আমি কখনও বলিনি যে তিনি একজন সন্ত্রাসী। তিনি মানুষকে আতঙ্কিত করছেন।"
বিজেপি-এআইএডিএমকে জোট নিয়ে প্রশ্ন তুলে খাড়গে বলেন, "তারা কীভাবে বিজেপির সঙ্গে জোট করতে পারে? মোদী একজন সন্ত্রাসী, যিনি সমতার নীতিতে বিশ্বাস করেন না, তার দলও সমতা ও ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করে না আর এই লোকেরা তার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে। এর মানে হল, তাঁরা গণতন্ত্রকে দুর্বল করছে, আন্নাদুরাই, আম্বেদকর এবং করুণানিধির আদর্শের ক্ষতি করছে।"
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে মঙ্গলবার তামিলনাড়ুতে নির্বাচনী প্রচার করেন। চেন্নাইতে তিনি বলেন যে, "মোদী এবং শাহ আগেও নির্বাচিত সরকার পতনের চেষ্টা করেছেন। আপনারা জানেন, গত ১১ বছরে তাঁরা অনেক সরকারের পতন ঘটিয়েছেন, বিধায়ক এবং রাজ্যসভার সাংসদ কিনেছেন। এই লোকেরা টাকা এবং পেশিশক্তি ব্যবহার করেছেন। তাঁরা তাঁদের হাতে যেসব সংস্থা রয়েছে, যেমন সিবিআই, ইডি এবং আয়কর বিভাগ, সবের অপব্যবহার করছে এবং রাজনৈতিক দলের নেতাদের ওপর অভিযান চালাচ্ছেন।" এরপর খাড়গে তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন।
কংগ্রেস সভাপতির মন্তব্যের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পদ্ম শিবির। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল মল্লিকার্জুন খাড়গের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, "আমরা লজ্জিত যে কংগ্রেস দল এতটা নিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একজন প্রধানমন্ত্রী, যাঁকে জনগণ বেছে নিয়েছেন, তাঁকে সন্ত্রাসী বলছেন। আমি খাড়গের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই। ভারতের জনগণের এই অপমানের জন্য আমি 'ক্ষমা চাইবার' দাবী করছি। তিনি শুধু প্রধানমন্ত্রীকেই নয়, ১৪২ কোটি ভারতীয় এবং তামিলদেরও অপমান করেছেন। তামিলনাড়ুর জনগণ রাহুল গান্ধী, খাড়গে এবং স্ট্যালিনকে কখনও ক্ষমা করবেন না।"
প্রসঙ্গত, 'তামিলনাড়ুতে ভোটগ্রহণ ২৩শে এপ্রিল। রাজ্যজুড়ে এক দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাচনী প্রচার শেষ হবে।'


No comments:
Post a Comment