ন্যাশনাল ডেস্ক, ৩০ এপ্রিল ২০২৬: মাকে খুনের অভিযোগ নাবালিকার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়েকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। এর পাশাপাশি তার প্রেমিক-সহ দুজনকে গ্ৰেফতার করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে ঘটেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পুলিশের কথানুযায়ী, আর্থিক বিরোধের জেরে মেয়েটি তার প্রেমিক ও তার বন্ধুদের সঙ্গে মিলে মাকে খুন করেছে।
মৃতার নাম নাহিদা পারভীন, বয়স ৫০ বছর। তিনি রাঁচির ডোরান্ডা থানা এলাকার মণিতোলা গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ২৭শে এপ্রিল, যদিও হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল ২৪শে এপ্রিল।
রাঁচি সিটি এসপি পারস রানা জানিয়েছেন যে, ২৬শে এপ্রিল মৃতির দেওর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাটিকে সন্দেহজনক বলেও বর্ণনা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং বিহারের গয়া জেলা থেকে দুজনকে গ্ৰেফতার করে, যার মধ্যে নাবালিকার প্রেমিক আরবাজ খানও রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় নাবালিকা তার অপরাধ স্বীকার করে। সে জানায়, সে তার মায়ের কাছে টাকা চাইছিল, কিন্তু মা তা দিতে রাজি হননি। সে তার প্রেমিককে বিয়ে করতে চেয়েছিল এবং তার পেছনে প্রচুর টাকা খরচ করছিল। পুলিশের মতে, সে ইতিমধ্যেই তার প্রেমিককে ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে দিয়েছিল।
মা যখন এ কথা জানতে পারেন, তিনি আর কোনও টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এরপর মেয়েটি তার প্রেমিক ও তার তিন বন্ধুর সঙ্গে মিলে নাহিদা পারভীনকে খুন করার পরিকল্পনা করে। ২৪শে এপ্রিল, তারা বালিশ দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে খুন করে। খুনের দুই দিন পর, ২৬শে এপ্রিল, ডোরান্ডার একটি কবরস্থানে দেহটি পুঁতে ফেলা হয়।
মঙ্গলবার, একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ দেহটি তুলে আনে। পরীক্ষায় মৃতার গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এরপর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস-এ পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং তারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য সন্দেহভাজনদের খুঁজছে। এদিকে এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘিরে পুরো এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

No comments:
Post a Comment