কলকাতা, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:১২:০১ : ভারতের নির্বাচন কমিশন ভারত নির্বাচন কমিশন রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে শান্তি বজায় রাখা এবং ভোটে কারচুপি রোধ করতে এক অভিনব ও কঠোর পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিক কলকাতা সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমার গানের মাধ্যমে দুষ্কৃতীদের সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। পাশাপাশি ‘বার্নল’ ও ‘বোরোলিন’ মজুত রাখার কথাও বলেছেন।
১৯৯০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দিল ছবির জনপ্রিয় গান “হাম প্যায়ার করনে ওয়ালে দুনিয়া সে না ডরনে ওয়ালে” ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশন একটি বার্তা দিয়েছে। বার্তাটি হল—যেমন প্রেমিকরা পৃথিবীকে ভয় পায় না, তেমনই কমিশনও সমালোচনাকে উপেক্ষা করে সহিংসতামুক্ত নির্বাচন করাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
নির্বাচন আধিকারিক অসামাজিক ব্যক্তি, গুন্ডা ও অপরাধীদের উদ্দেশ্যে তীব্র ভাষায় বলেছেন—যারা ভোটে গোলমাল করবে, তাদের জন্য নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তাই আগে থেকেই ‘বার্নল’ ও ‘বোরোলিন’ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সেটাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। কেউ বাধা দিলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিশনের অঙ্গীকার—
১. কোনও হিংসা নয়
২. কোনও ভয় দেখানো নয়
৩. কোনও প্রলোভন নয়
৪. কোনও ভুয়ো ভোট নয়
৫. বুথ দখল নয়
৬. ভোট প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা নয়
‘বার্নল’ শব্দটি এখানে ব্যঙ্গ হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। রাজনৈতিক আলোচনায় যখন কেউ কোনও ফলাফলে ক্ষুব্ধ হয় বা ‘জ্বালা’ অনুভব করে, তখন তাকে ঠাট্টা করে ‘বার্নল লাগাতে’ বলা হয়। সেই অর্থেই দুষ্কৃতীদের উদ্দেশ্যে এই মন্তব্য করা হয়েছে।
অন্যদিকে ‘বোরোলিন’ পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে শুধু একটি ওষুধ নয়, এক ধরনের আবেগ। ১৯২৯ সালে কলকাতায় গৌরমোহন দত্ত এটি চালু করেন, যা পরে স্বদেশী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে। আজও প্রায় প্রতিটি বাঙালি পরিবারের প্রাথমিক চিকিৎসার অংশ এটি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদিও কোনও দলের নাম নেওয়া হয়নি, এই বার্তাটি পরোক্ষভাবে তৃণমূল কংগ্রেস-এর দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। অতীতে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের শাসক দলের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ দেখা গেছে।
এই ধরনের কড়া এবং ব্যঙ্গাত্মক ভাষার ব্যবহার একদিকে যেমন দুষ্কৃতীদের সতর্ক করছে, অন্যদিকে তা রাজনৈতিক মহলেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

No comments:
Post a Comment