প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৪৫:০১ : তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের নাসিক শাখায় ধর্মান্তরের চেষ্টা ও যৌন হয়রানির অভিযোগে বড় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অফিসে কর্মরত একাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুলিশ মানবসম্পদ বিভাগের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে খুঁজছে। এই ঘটনার তদন্ত করছে বিশেষ তদন্তকারী দল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি বড় চক্রের সন্ধান মিলেছে যেখানে শুধু সাধারণ কর্মচারী নয়, উচ্চপদস্থ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপকও জড়িত ছিলেন। অভিযোগ, প্রশিক্ষণের সময় অভিযুক্তরা হিন্দু দেবদেবীদের নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করত।
অভিযুক্তরা প্রশিক্ষণ দলের সদস্য হওয়ায় নতুন যোগদান করা কর্মীদের সমস্ত তথ্য তাদের কাছে থাকত। তারা বিশেষ করে আর্থিকভাবে দুর্বল বা পারিবারিক সমস্যায় থাকা কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু বানাত। প্রশিক্ষণের সময় এমন মন্তব্যে কেউ অস্বস্তি বোধ করলে মানবসম্পদ বিভাগের এক মহিলা কর্মকর্তা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ধীরে ধীরে নিজের প্রভাব বিস্তার করতেন। এরপর ওই কর্মীদের জীবনযাপন ও পোশাক-আচরণ পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হত।
তদন্তে আরও জানা গেছে, এক নারী কর্মী এতটাই প্রভাবিত হয়ে পড়েছিলেন যে তিনি নিজের বাড়ি থেকে হিন্দু দেবদেবীদের ছবি সরিয়ে দেন এবং পরিবারের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে শফি শেখ, আসিফ আনসারি, শাহরুখ কুরেশি প্রমুখ। পুলিশ একটি হোয়াটসঅ্যাপ গোষ্ঠীর সন্ধান পেয়েছে, যেখানে এই চক্র লক্ষ্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করত। এছাড়া যৌন হয়রানি ও ধর্মান্তরের অভিযোগে ধৃতদের ব্যাংক হিসাবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে বোঝা যায় তারা কোনও অবৈধ অর্থ লেনদেনে যুক্ত ছিল কি না।
এই সপ্তাহের শুরুতে আটজন মহিলা কর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, তাদের ঊর্ধ্বতন সহকর্মীরা মানসিক ও যৌন হয়রানি করতেন এবং মানবসম্পদ বিভাগ তাদের অভিযোগ উপেক্ষা করেছিল। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার, রেজা মেমন, শাহরুখ কুরেশি, শফি শেখ, আসিফ আফতাব আনসারি এবং এক মহিলা ব্যবস্থাপক রয়েছেন, যাকে ঘটনাটি সামনে আসার পর বরখাস্ত করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment