প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৩৫:০১ : আম আদমি পার্টির নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা নিজের দলের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এবার আপ-এর মুখপাত্র প্রিয়াঙ্কা কক্কর চাড্ডাকে নিশানা করেছেন। অশোক মিত্তালের বাসভবনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র অভিযানের জন্য তিনি তাকে দায়ী করেছেন। প্রিয়াঙ্কা অভিযোগ করেছেন যে, রাঘব একজন বিজেপি নেতার সঙ্গে মিলে জেড+ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইডি-র অভিযানকে সহজতর করতে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এই ঘটনার পর পাঞ্জাব সরকার চাড্ডাকে দেওয়া জেড+ নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেয়।
এই ঘটনার পর পাঞ্জাব সরকার রাঘব চাড্ডার দেওয়া জেড প্লাস নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্র সরকার দিল্লি পুলিশকে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
প্রিয়াঙ্কা কক্কড় এক সাক্ষাৎকারে বলেন, রাঘব চাড্ডাকে রাজ্যসভার উপনেতা পদ থেকে সরিয়ে অশোক মিত্তলকে দায়িত্ব দেওয়ার পরই এই অভিযান হওয়া নিছক কাকতালীয় নয়। তাঁর মতে, রাঘবের বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পরই এসব ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, রাঘবকে মনে রাখা উচিত, অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাঁকে সাধারণ স্তর থেকে তুলে সংসদে পৌঁছে দিয়েছেন।
পাঞ্জাব সরকার নিরাপত্তা প্রত্যাহার করার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বেড়েছে। দলীয় সূত্রে অভিযোগ, রাঘব চাড্ডা সংসদে পাঞ্জাবের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি তেমনভাবে উত্থাপন করছিলেন না এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র অবস্থানও নিচ্ছিলেন না। এদিকে রাঘব নিজে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তাঁর কাজ জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরা, কোনও বাধা সৃষ্টি করা নয়।
এদিকে পাঞ্জাবের আম আদমি পার্টির নেতা বলতেজ পান্নু বলেন, বিজেপি প্রায়ই তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে। তাঁর বক্তব্য, যে নেতা বিজেপিতে যোগ দেন, তিনি সাধারণত বাড়তি নিরাপত্তা পেয়ে যান।
অন্যদিকে পাঞ্জাব বিজেপির সভাপতি সুনীল জাখড় বলেন, এই অভিযান কোনও সাংসদের বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে অশোক মিত্তলের বিরুদ্ধে হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রায় ২৩১ কোটি টাকার তফসিলি জাতি ও অনগ্রসর শ্রেণির শিক্ষাবৃত্তি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে এই তদন্ত চলছে।
পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। অনেকের মতে, আগামী দিনে রাঘব চাড্ডা তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

No comments:
Post a Comment