টলিপাড়ায় দুঃসংবাদ! না ফেরার দেশে অভিনেতা-বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, April 24, 2026

টলিপাড়ায় দুঃসংবাদ! না ফেরার দেশে অভিনেতা-বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত


বিনোদন ডেস্ক, ২৪ এপ্রিল ২০২৬: সিনেপাড়ায় দুঃসংবাদ। না ফেরার দেশে অভিনেতা তথা বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। শুক্রবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে সাংস্কৃতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর স্ত্রী রুমা দাশগুপ্ত জানান, শুক্রবার সকালেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত দুপুরে সব লড়াই শেষ হয়ে যায়।


অভিনেতা বিপ্লব দাশগুপ্তর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে এমন দুঃসংবাদ ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। অভিনেতার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ জয়জিৎ। খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকবার্তা জ্ঞাপন করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রূপাঞ্জনা মিত্র-সহ অন্যান্যরা। 


জানা গিয়েছে, প্রায় বছর ধরেই অসুস্থ ছিলেন বিপ্লব দাশগুপ্ত। দক্ষিণ কলকাতার গল্ফক্লাব রোডে বরিষ্ঠ অভিনেতার বাড়ি। শুক্রবার বিকেলে সেখান থেকেই টালিগঞ্জ টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে আনা হবে প্রয়াত অভিনেতার নিথর দেহ। এদিন শেষবারের মতো শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে উপস্থিত থাকছেন টেলিদুনিয়া, সিনেদুনিয়ার তারকামহলের অনেকেই, এমনই জানা গিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে। আর্টিস্ট ফোরামের তরফেও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়েছে অভিনেতাকে।


প্রায় দু'দশকেরও বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত অভিনেতা। তাঁর অভিনয় জীবনে পা রাখা ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'শ্যাডোজ অফ টাইম' নামক চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। 


ফেলুদা, বাইশে শ্রাবণ এবং গুমনামি-র মতো একঝাঁক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন বিপ্লব দাশগুপ্ত। ২০১৯ সালে তিনি 'দেবতার গ্রাস' ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং নাসিরুদ্দিন শাহের মতো কিংবদন্তি অভিনেতাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন। 'কুয়াশা যখন', 'রাগে অনুরাগে', 'সখী', 'নেতাজি'র মতো আরও অনেক জনপ্রিয় বাংলা ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মন ছুঁয়েছে।


যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর শেষ করার পরে সাহিত্য, নাট্যজগৎ ও চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি অত্যন্ত সুদক্ষ আবৃত্তিকার ছিলেন বিপ্লব দাশগুপ্ত। তবে চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, স্কুল শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তীকালে ভয়েস-ওভার আর্টিস্ট এবং তার পরে বিজ্ঞাপন জগতেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। একটা সময়ে অভিনয়কেই তাঁর পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এমন একজনকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ শিল্পজগত।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad