ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে চরম পদক্ষেপ? বাড়িতে পড়ে যুবকের রক্তাক্ত দেহ, নিখোঁজ বাবা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, April 10, 2026

ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে চরম পদক্ষেপ? বাড়িতে পড়ে যুবকের রক্তাক্ত দেহ, নিখোঁজ বাবা

 


নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি, ১০ এপ্রিল ২০২৬: ভোটের আবহে জেলায়-জেলায় বাড়ছে উত্তাপ। এই আবহেই যুবকের রহস্যমৃত্যু। বাড়িতেই পড়ে দেহ। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির নগর বেরুবাড়িতে। তদন্তে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। জলপাইগুড়ির নগর বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অমরখানা এলাকায় এক ৩২ বছর বয়সী যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় শুক্রবার। প্রাথমিক অনুমান, মদ্যপ ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে বৃদ্ধ বাবা-ই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। 


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃতের নাম কমলেশ রায় ওরফে পাপন। এদিন ভোর প্রায় ৫টা ৫০ নাগাদ পুলিশে খবর যায় যে, বাড়ির ভিতরে এক ব্যক্তির দেহ পড়ে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখতে পায়, নিজের ঘরের বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন কমলেশ। তাঁর কপালে গভীর ক্ষতচিহ্ন ছিল এবং প্রচুর রক্তক্ষরণের প্রমাণও মেলে।


প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে পারিবারিক অশান্তির বিষয়। স্থানীয়দের দাবী, কমলেশ মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই বাড়িতে অশান্তি করতেন। এছাড়াও যুবক দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিল। স্থানীয় থানায় একাধিক অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে মায়ের ওপর হামলা চালান। আতঙ্কে তাঁর মা ৬ মাসের নাতনিকে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেই সময় বাড়িতে ছিলেন কমলেশ ও তাঁর বাবা রবি রায়। 


শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ যুবকের বাবা রবি রায় ছেলের মৃত্যুর কথা জানিয়ে চিৎকার করেন এবং তারপর থেকেই তিনিও নিখোঁজ বলে জানা গেছে।এতেই সন্দেহ হয় যে, দীর্ঘদিনের রাগ থেকে তিনিই হয়তো একাজ করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবকের দেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে দেহ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। 


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৌভনিক মুখোপাধ্যায় জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়েছে। খুনের পেছনে বাবার ভূমিকা যেমন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তমনই কমলেশের অসামাজিক কাজকর্মের জেরে অন্য কোনও শত্রু এই কাণ্ড ঘটিয়েছে কিনা সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞর সাহায্য নেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad