কলকাতা: বুধবার (২৯শে এপ্রিল, ২০২০) রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। বিকেল ৪টে নাগাদ ভবানীপুর কেন্দ্রের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট দেওয়ার পর তিনি ভিকট্রি চিহ্ন দেখান। পাশাপাশি ভোট দানের পরেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। তৃণমূল নেতাকর্মী সমর্থকদের ওপরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচারের অভিযোগও তোলেন মমতা।
এদিন সকাল থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে কথার লড়াই তীব্র হয়েছে। রাজ্যে সিআরপিএফ-এর ব্যাপক মোতায়েন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর অভিযোগ, সেন্ট্রাল ফোর্স মানুষকে যাতা ভাবে মারছে। কাউকে ছাড়ছে না, মহিলাদের মেরেছে, শিশুদেরও ছাড়েনি। গতকাল রাত থেকে শুরু করেছে। ওরা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের গ্রেফতার করেছে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও। এটা তো আদালত অবমাননা। আমি গণতন্ত্রকে এমন দেখিনি।"
তিনি বলেন, 'কেন্দ্রীয় বাহিনীর আইনশৃঙ্খলা সিকিওর করার কথা। কিন্তু, তার জায়গায় ওরা একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সিকিওর করছে। এমনকি, আমার পাড়াতেও মেয়েদের মেরেছে। দেখুন না, সব সেন্ট্রাল ফোর্স দাঁড়িয়ে। একটাও রাজ্য পুলিশ নেই।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবী, আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট, ক্যানিং পূর্ব এবং পশ্চিম একাধিক জায়গা থেকে তৃণমূলের কর্মী-এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি আমার পাড়াতেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মারধর করেছে। ভোট দিতে দেয়নি। আমি সবাইকে বলব শান্তি বজায় রাখুন, শান্তিতে থাকুন। আমরাই জিতছি আমরাই ক্ষমতাতে আসব।"
এরপরেই মমতা বলেন, “আই অ্যাম সরি! আমি ১৯৯৪ থেকে ভোট লড়ছি। এবার এমন অত্যাচার হচ্ছে, এমনকি আমার পাড়ায় পর্যন্ত মেয়েদের মেরেছে। ও যে কী করছে আর না করছে আপনারা কল্পনা করতে পারবেন না।"
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এর আগে বলেছিলেন, "সিও এইমাত্র নির্দেশ দিয়েছেন যে, রাজ্যজুড়ে চারজনের বেশি জড়ো হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী ছত্রভঙ্গ করতে যা খুশি করতে পারে। সিও আরও নির্দেশ দিয়েছেন যে, যাঁরা ইতিমধ্যে ভোট দিয়ে ফেলেছেন, তাঁরা যেন বাড়ি ফিরে যান।" তৃণমূলের-র হট্টগোল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "বাংলাদেশি মুসলিম, অনুপ্রবেশকারীরা গোলমাল করছিল, কিন্তু সব হিন্দু জেগে উঠেছে।"
কলকাতার ভবানীপুর এবারের নির্বাচনে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র। প্রায় সবার নজর রয়েছে এখানে। শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি কে হাসবেন, সেটাই এখন দেখার।

No comments:
Post a Comment