ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৯ এপ্রিল ২০২৬: নাবালিকাকে ব্ল্যাকমেইল ও ভয় দেখানোর অভিযোগ। অভিযোগের তির বাবার বন্ধুর বিরুদ্ধে। মধ্যপ্রদেশের গুনাতে ঘটেছে এই নক্ক্যারজনক ঘটনাটি। নাবালিকার বয়স ১৫ বছর। সোমবার রাতে নাবালিকা সাহস সঞ্চয় করে চাইল্ড লাইনে একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের পর, চাইল্ড লাইন দল পুলিশের সহায়তায় তাকে তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে একটি ওয়ান স্টপ সেন্টারে ভর্তি করা হয়।
চাইল্ড লাইন টিমকে নিজের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে আক্রান্ত নাবালিকা জানায়, “আমি আমার ছোট বোন, বাবা ও ঠাকুরমার সঙ্গে গুনাতে থাকি। আমার বাবা-মায়ের মধ্যে ঝগড়া হতো, তাই ৮ বছর আগে ঠাকুরমা আমাদের ছেড়ে গোয়ালিয়র চলে যান। আমার বাবা মদে আসক্ত ছিলেন। তাঁর বন্ধুরা নিয়মিত আমাদের বাড়িতে আসতেন। ফিরোজ খান কাকাও বাবার সঙ্গে বাড়িতে আসতেন। কাকা যখনই বাড়িতে আসতেন, তিনি আমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকতেন।”
"২০২৫ সালের ২৫শে ডিসেম্বর, ফিরোজ কাকা, তাঁর স্ত্রী, ছেলেমেয়েরা, আমার বাবা, আমার বোন এবং আরেক কাকা—আমরা সবাই কোটা (রাজস্থান) গিয়েছিলাম। ফিরোজ কাকা কোটায় তাঁর স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের নামিয়ে দেন এবং আমরা সবাই ফিরে আসি। ফেরার পথে ফিরোজ কাকা আর আমি মাঝের সিটে বসেছিলাম। আমার বাবা আর তাঁর বন্ধু সামনের সিটে ছিলেন। আমার ছোট বোন পেছনের সিটে একা বসেছিল। তখন ফিরোজ কাকা অসৎ উদ্দেশ্যে আমার বুকে চাপ দেন এবং কোমরে হাত রাখেন, এতে আমি ভয় পেয়ে যাই। আমি বাবাকে গাড়ি থামাতে বলি এবং বোনের সাথে পেছনের সিটে গিয়ে বসি।"
"গুনাতে আসার পর আমি এই ঘটনা থেকে মানসিকভাবে সেরে উঠতে পারিনি। যখনই আমার বাবার বন্ধু, ফিরোজ কাক বাড়িতে আসতেন, তিনি আমাকে হুমকি দিতেন। তিনি বলতেন, "তুই যখন স্নান করছিলি, আমি তোর একটা ভিডিও করেছি। যদি আমার কথা না শুনিস, আমি ওটা ভাইরাল করে দেব। তোর সর্বনাশ হয়ে যাবে।"
"ফিরোজ কাকা আমাকে বারবার চাপ দিতে থাকেন, যাতে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমি এ ব্যাপারে কাউকে কিছু বলতে পারিনি। আমার এই অবস্থায় ছোট বোনও খুব কষ্ট পাচ্ছিল। কোনও মতে সাহস সঞ্চয় করে আমি চাইল্ড লাইনে একটি অভিযোগ দায়ের করি।"
নির্যাতিতার অভিযোগের পর, রাত ১২ টায় এফআইআর দায়ের করা হয়। এরপর পুলিশ রাত প্রায় ২টার দিকে অভিযুক্ত ফিরোজ সেলিম খানকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। ফিরোজ পেশায় একজন হকার এবং অন্য মহিলাদের সাথে তার সম্পর্ক রয়েছে।
ফিরোজ তার বন্ধুর মেয়ের ওপর খারাপ উদ্দেশ্যে নজর রাখছিল। তবে, নাবালিকার সাহস তাকে ফিরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত করে। পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের দাবী জানায় সকলে।
সিটি কোতোয়ালি টিআই রাজকুমার শর্মা জানিয়েছেন যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৪, ৭৭, ৩৫১(২) ধারা এবং পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মেয়েটি বর্তমানে মানসিক আঘাতে ভুগছে এবং তার কাউন্সেলিং চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে মেয়েটিকে হুমকি ও শোষণ করে আসছিল। পুলিশ বর্তমানে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখছে।
এসপি হিতিকা ভাসাল জানিয়েছেন যে, ওই নাবালিকা অভিযোগ করেছে তার বাবার এক বন্ধু তার সঙ্গে কিছু দুষ্কর্ম করেছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে এবং একটি এফআইআর দায়ের করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে সমস্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments:
Post a Comment