ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৯ এপ্রিল ২০২৬: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া অশান্তি সাধারণ বিষয়। বিশেষ করে সংসারের টুকিটাকি বা রান্নাবান্না নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি চলে। কিন্তু তাই বলে সামান্য চিকেন কারির জন্য স্বামীকে খুন! আজ্ঞে হ্যাঁ, এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার কামারেড্ডিতে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম কোদণ্ডম শিবাজি এবং তিনি গোসাঙ্গি কলোনির বাসিন্দা ছিলেন।
জানা গিয়েছে, চিকেন কারি না বানানো নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। যা মুহূর্তেই ভয়ানক রূপ নেয়। অভিযোগ, মুরগির মাংস রান্না না করায় স্ত্রীকে বকাঝকা করেন ওই ব্যক্তি। সেই সময় মহিলাটি তাঁর স্বামীকে খুন করেন। তিনি কাস্তে দিয়ে স্বামীকে আক্রমণ করেন, এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাঁরা অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে এবং একটি মামলা রুজু করে বিষয়টি তদন্ত করছে।
শনিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে, মুরগির মাংস রান্না না করা নিয়ে শিবাজীর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মীর তর্কবিতর্ক হয়। কাছেই বসবাসকারী তাঁদের আত্মীয় দাদায়া ও শারদা বাড়িতে এসে তাঁদের শান্ত করেন। কিন্তু তাঁরা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ঝগড়া আবার শুরু হয় এবং শিবাজী তাঁর ইচ্ছেমতো রান্না না করা ও অন্যান্য ঘরোয়া সমস্যার জন্য লক্ষ্মীকে দোষারোপ করেন।
ঝগড়া বাড়তে থাকলে, আরেক আত্মীয় নন্দিনী তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করেন, কিন্তু দম্পতি ঝগড়া চালিয়ে যান। কামারেড্ডি থানার ইন্সপেক্টর বি. নরহরি বলেন, "ঝগড়ার সময় লক্ষ্মী বাড়িতে রাখা একটি কাস্তে তুলে শিবাজীর ঘাড়ে আঘাত করেন। এই আঘাতে শিবাজী পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।"
আক্রান্তের বড় ভাই সুরির করা অভিযোগ অনুযায়ী, শিবাজি প্রায় ছয় বছর আগে লক্ষ্মীকে বিয়ে করেন এবং তাঁদের দুটি মেয়ে রয়েছে। এই দম্পতি গত ছয় মাস ধরে তাঁদের আত্মীয় দাদায়ার মালিকানাধীন একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন। পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছেন যে, শিবাজি ও লক্ষ্মীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো এবং বিবাদ মেটাতে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা বেশ কয়েকবার হস্তক্ষেপ করেছিলেন।
সুরির অভিযোগের ভিত্তিতে, রবিবার লক্ষ্মীর বিরুদ্ধে বিএনএস-এর ১০৩ (১) (খুন) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। রবিবার ময়নাতদন্তের পর মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ সোমবার লক্ষ্মীকে গ্রেফতার করেছে এবং তাঁকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

No comments:
Post a Comment