কলকাতা: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হেভিওয়েট নেতাদের আনাগোনা বেড়েছে বঙ্গে। একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলায় আসছেন এবং একাধিক জায়গায় সভা করেছেন। জনসংযোগে বেরিয়ে তাঁকে দেখা গেছে রাস্তার ধারে দোকানে ঢুকে ঝালমুড়ি খেতে। এমনকি গঙ্গা বক্ষে নৌকাবিহারও করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
সেইদিনটা ছিল শুক্রবার। ঐদিন কলকাতার প্রিন্সেপ ঘাটে হঠাৎই হাজির হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গঙ্গার তীরে তখন মাঝিরা সারি সারি নৌকোতে বসে, তখন হঠাৎ করেঈ প্রধানমন্ত্রী উঠে বসলেন গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের নৌকায়। তাঁর সঙ্গেই তিনি গঙ্গা বক্ষে নৌকাবিহার সারেন। আর এরপর থেকেই যেন রাতারাতি সেলিব্রিটি হয়ে ওঠে গৌরাঙ্গর পরিবার।
হুগলির জিরাটের গোপালপুর গ্রাম। সেই গ্রামেরই বাসিন্দা বছর সত্তরের গৌরাঙ্গ বিশ্বাস। এলাকার সবার কাছেই তিনি কালু নামে পরিচিত। স্ত্রী, সন্তান ও কন্যাকে নিয়ে তাঁর পরিবার। যদিও তাঁর স্ত্রী বর্তমানে অসুস্থ। গোটা পরিবারের দায়িত্ব ছেলে শংকরের কাঁধে। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তাঁর পরিবারের কেউই বিশ্বাস করতে পারেননি তাঁর বাবার নৌকায় উঠেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও পরে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসা শুরু হয় গৌরাঙ্গর ছেলের কাছে। তখন তিনি বুঝতে পারেন কিছু একটা হয়েছে। বাবাকে ফোন করতেই বলেন "আমি ব্যস্ত রয়েছি পরে কথা বলছি"। তখন পুরো বিষয়টা জানতে পারেন গৌরাঙ্গর পরিবার। এরপর গোটা গ্রাম জুড়েই বইছে খুশির হাওয়া বইতে থাকে।
গত ১৫ বছর আগে বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় পাড়ি দিয়েছিলেন গৌরাঙ্গ। একসময় বলাগড়ের গঙ্গায় মাছ ধরে তাঁর জীবিকা চলত। কিন্তু গঙ্গায় মাছ না থাকায় সংসার চালাতে সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় । তখনই ঠিক করেন কলকাতায় পাড়ি দেবেন। এরপর থেকেই কলকাতার প্রিন্সেপ ঘাটের কাছে গঙ্গাবক্ষে নৌকো চালান গৌরাঙ্গ।
কালুর দোতলা বাড়ি পুরোটাই পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। বাড়ি দেওয়াল জুড়ে আঁকা রাজনৈতিক দলের প্রতীক। ঘাসফুল থেকে পদ্মফুল, মোদী থেকে মমতা ।সবই রয়েছে তাঁর দেওয়ালে জুড়ে।
গৌরাঙ্গর ছেলে শংকর বলেন, "বাবা নিজেও বুঝতে পারেননি হঠাৎ করেই দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর নৌকায় উঠবেন। আমাকেও অনেকে ছবি পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করছে, এটা কি সত্যি? আমরাও প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। বাবাকে অনেকবার ফোন করেছি, কিছুতেই ফোন পাচ্ছিলাম না। পরে ফোন করে জানায়, 'অনেক মানুষ, পরে ফোন করছি'। একসময় গঙ্গায় মাছ ধরত। বছর ১৫ ধরে কলকাতাতেই নৌকো চালায়। কাজ ছিল না, তাই পাড়ি দিতে হয়েছিল কলকাতায়। এটা আমরা কোনদিনও ভাবতেই পারিনি।"
তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়া এত সহজ নয়। এটা আমাদের কাছে এখনও স্বপ্নের মতন। নিজস্ব নৌকো নেই ,অন্যের কাছে কাজ করে। আমি গেঞ্জি তৈরি করে সংসার চালাই। মহাজনের থেকে মাল নিয়ে এসে গেঞ্জি তৈরি করে আবার দিয়ে আসতে হয়।
গৌরাঙ্গর প্রতিবেশীরা জানায়, এটা আমাদের কাছে গর্বের। আমরা প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি, আবেগপ্রবণ হয়ে গেছি। প্রথমে একটু সন্দেহ হচ্ছিল আদৌ কাকা তো!

No comments:
Post a Comment