দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রাক্কালে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন পুলিশ জেলার অন্তর্গত মন্দিরবাজার থানার ছোট মন্দির এলাকায় উদ্ধার হয়েছে এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। ভোটের আগে এমন ঘটনায় রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশাসন, সবাই সতর্ক হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে মন্দিরবাজার থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে গোটা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সেই মতো মন্দিরবাজার থানার পুলিশ এবং আইটিবিপি ব্যাটেলিয়নের যৌথ উদ্যোগে ছোট মন্দির এলাকার একটি ব্যস্ততম রাস্তায় নাকা চেকিং চলছিল। প্রতিটি গাড়ি ও সন্দেহজনক ব্যক্তিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল, যাতে কোনও বেআইনি কার্যকলাপ রোখা যায়। এই সময় একটি মোটরবাইকে করে তিনজন যুবক ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। তাদের গতিবিধি কিছুটা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ বাইকটিকে থামায়। বাইক থামতেই আচমকা এক যুবক নেমে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনায় কিছুটা হতচকিত হলেও তৎপরতার সঙ্গে বাকি দুই যুবককে আটক করে পুলিশ।
এরপর আটক যুবকদের কাছে থাকা একটি ব্যাগে তল্লাশি চালাতেই চোখ ছানাবড়া কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের। ব্যাগের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় নগদ ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এত বড় অঙ্কের টাকা দেখে সঙ্গে সঙ্গে দুই যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুই যুবকের নাম অর্ঘ্য পুরকাইত ও শুভদ্বীপ হালদার। তারা দুজনেই মন্দিরবাজার থানার অন্তর্গত লক্ষীকান্তপুর এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা টাকার সঠিক উৎস বা নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্তোষজনক কোনও উত্তর দিতে পারেনি। ফলত সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
অন্যদিকে, পালিয়ে যাওয়া তৃতীয় যুবকের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। তার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে এবং সম্ভাব্য সব জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, এই তিনজনের সঙ্গে আরও বড় কোনও চক্র জড়িত থাকতে পারে, পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
তবে ভোটের মুখে বিপুল পরিমাণ এই নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—এই টাকা কি ভোটে প্রভাব খাটানোর উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছিল? নাকি এর পিছনে নেপথ্যে কোনও অপরাধমূলক উদ্দেশ্য রয়েছে? নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারির মধ্যে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনের সময় বেআইনি টাকা, মদ বা অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ রুখতে নির্বাচন কমিশন বিশেষ নজরদারি চালায়। সেই কারণে বিভিন্ন জায়গায় নাকা চেকিং, ফ্লাইং স্কোয়াড এবং স্ট্যাটিক নজরদারি দল মোতায়েন করা হয়। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও সেই সতর্কতার ফলেই এত বড় অঙ্কের টাকা উদ্ধার সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আয়কর দফতর এবং নির্বাচন কমিশনকেও বিষয়টি জানানো হতে পারে। পাশাপাশি আটক দুই যুবকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভোটের আগে প্রশাসনের এমন কড়া পদক্ষেপই স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। তবে, নির্বাচনের ঠিক আগে সুন্দরবনে এই টাকা উদ্ধার কাণ্ড ঘিরে ক্রমশই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। পলাতক যুবককে গ্রেফতার এবং টাকার উৎস জানতে মরিয়া পুলিশ-প্রশাসন।


No comments:
Post a Comment