ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৮ এপ্রিল ২০২৬: সোমবার থেকেই গ্যাংটকে সাজ সাজ রব। সিকিমের ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সোমবারই সেখানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রাজনীতির আঙিনা থেকে দূরে একেবারে ভিন্ন রূপে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। মঙ্গলবার সকালে গ্যাংটকে ফুটবল খেলায় মাতলেন মোদী। এদিন ক্ষুদে ফুটবলারদের সঙ্গে মাঠে নেমে বল পায়ে ড্রিবলিং করতে দেখা গেল তাঁকে। এই ছবি নিজেই সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সিকিমের রাজ্য দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানের মাঝেই এই ফুটবল সেশনকে অত্যন্ত 'শক্তিদায়ক' ও 'মনোরম' বলে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাজমাধ্যমে ছবি শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছেন, "গ্যাংটকের এক মনোরম সকালে সিকিমে আমার ছোট বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলার চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না!"
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের জোরদার প্রচার সেরে পার্শ্ববর্তী রাজ্য সিকিমে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীর এই সফর ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। সোমবারই গ্যাংটকের রাস্তায় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিশাল সাংস্কৃতিক রোড-শো আয়োজিত হয়েছিল। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হাজার হাজার মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানান।
সিকিমের ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর। এদিন সকালে পালজোর স্টেডিয়ামে সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে তিনি গ্যাংটকের অর্কিডিয়ামও পরিদর্শন করেন। সিকিমের পরিবেশগত ঐতিহ্য ও অর্কিড চাষের গুরুত্ব সেখানে তুলে ধরা হয়।
এরপর পালজোর স্টেডিয়ামের মূল মঞ্চ থেকে সিকিমের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নামচির ইয়াংগাং-এ ১০০ শয্যার আয়ুর্বেদ হাসপাতাল এবং দেওরালিতে সোয়া রিগপা হাসপাতালের উদ্বোধন করেন তিনি। ছিল শিক্ষা ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা। সিকিম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে হেলেন লেপচা মেডিকেল কলেজ এবং গ্যাংটকের কাছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ইউনিভার্সিটি অব এক্সিলেন্সের প্রশাসনিক ব্লকের উদ্বোধন করেন তিনি। এছাড়া ১৬০টি স্কুলে আইটি পরিকাঠামোর সূচনাও করেন প্রধানমন্ত্রী। সব মিলিয়ে উন্নয়নের ডালি নিয়ে সিকিমের সুবর্ণ জয়ন্তীকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেইসঙ্গে নিজেও ধরা দিলেন এক ভিন্ন রূপে।
উত্তর-পূর্ব ভারতে ফুটবলের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। সিকিম, মিজোরাম বা মণিপুরের মতো রাজ্যে ক্রিকেটকে ছাপিয়ে ফুটবলই যেন এখন শেষ কথা। ভারতের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩.৮ শতাংশ এই অঞ্চলে থাকলেও, আইএসএল-সহ দেশের প্রথম সারির লিগগুলোতে এক-তৃতীয়াংশ ফুটবলারই আসেন এই পাহাড়ি অঞ্চল থেকে। সেই আবেগকেই যেন এদিন মাঠে নেমে উসকে দিলেন মোদী।



No comments:
Post a Comment