প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৫৫:০১ : সংসদের বিশেষ অধিবেশনের প্রথম দিনে লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী বিরোধীদের তীব্রভাবে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, আগে যারা এই বিলকে সমর্থন করেছিল, তারাই এখন বিরোধিতা করছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, নারীদের সংরক্ষণ আমাদের অতীতের ভুল সংশোধনের একটি সুযোগ। এই বিল কারও প্রতি অন্যায় করবে না এবং কোনো রাজ্যের সঙ্গেও বৈষম্য করবে না—এ বিষয়ে তিনি নিশ্চয়তা দেন।
তিনি বলেন, সংরক্ষণ নারীর ন্যায্য অধিকার। আগে থেকে যে অনুপাত চালু রয়েছে, তাতে কোনো পরিবর্তন হবে না। বিরোধিতা করলে তার রাজনৈতিক লাভ হবে, আর সবাই একসঙ্গে সমর্থন দিলে তিনি কৃতিত্ব অন্যদের দিতে প্রস্তুত। এই বিলের মাধ্যমে নারীদের তাদের প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা যেন এই ভ্রান্ত ধারণায় না থাকি যে আমরা নারীদের কিছু দিচ্ছি—এটি তাদের অধিকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত তিন দশক ধরে নারী সংরক্ষণ নিয়ে টালবাহানা চলছে। তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন, এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির মাপকাঠিতে না দেখে দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে। ২০২৩ সালে নতুন সংসদ ভবনে সর্বসম্মতিক্রমে নারী শক্তি বন্দন আইন গৃহীত হয়েছিল, যা সারা দেশে আনন্দের পরিবেশ তৈরি করেছিল এবং এতে কোনো রাজনৈতিক রঙ লাগেনি।
তিনি বলেন, এখন প্রশ্ন হলো—আর কতদিন এটিকে আটকে রাখা হবে? ২০২৩ সালে আলোচনা চলাকালীন সবাই দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি করেছিল। ২০২৪ সালে তা সম্ভব হয়নি, কারণ এত কম সময়ে এটি কার্যকর করা কঠিন ছিল। এখন ২০২৯ পর্যন্ত সময় রয়েছে। যদি তখনও এটি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে পরিস্থিতি কী হবে তা সহজেই বোঝা যায়। তাই আর দেরি করা উচিত নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ মনে করেন এতে তার রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। কিন্তু বিরোধিতা করলে স্বাভাবিকভাবেই তার লাভ হবে, আর সবাই একসঙ্গে এগোলে কারও আলাদা সুবিধা হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার কোনো কৃতিত্বের প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, "বিল পাস হওয়ার পর তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে এবং সকলের ছবি প্রকাশ করতে প্রস্তুত। কৃতিত্ব সবাই নিয়ে নিক—যার ছবি ছাপাতে চান, তিনি সরকারি খরচে তা প্রকাশ করতে রাজি।"

No comments:
Post a Comment