প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৫০:০১ : প্রধানমন্ত্রী মোদী বৃহস্পতিবার লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে সব রাজনৈতিক দলকে বিলটির সমর্থনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কেউ যদি এর বিরোধিতা করে, তাহলে তার রাজনৈতিকভাবে লাভ হবে। আর যদি সবাই একসঙ্গে সমর্থন করে, তবে তিনি কৃতিত্ব অন্যদের দিতে প্রস্তুত। তার নিজের কোনো কৃতিত্বের প্রয়োজন নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু মানুষের ধারণা এই সিদ্ধান্তে তার রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত। কিন্তু যদি বিরোধিতা করা হয়, তাহলে তার লাভ হওয়া স্বাভাবিক; আর সবাই একসঙ্গে এগোলে কারও আলাদা রাজনৈতিক সুবিধা হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিল পাস হলে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে এবং সকলের ছবি প্রকাশ করতে প্রস্তুত—কৃতিত্ব সবাই নিয়ে নিক।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের জননী হিসেবে এটি ভারতের সাংস্কৃতিক অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকারের ফলেই পঞ্চায়েত স্তরে নারীদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, সংবেদনশীল বিষয় সমাধানে দৃঢ় অঙ্গীকার সবসময় ফলপ্রসূ হয়।
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, নারীদের আমরা কিছু দিচ্ছি—এমন অহংকার করা ঠিক নয়। এটি তাদের ন্যায্য অধিকার, যা বহু বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছে। এখন সেই ভুল সংশোধন করার সময় এসেছে।
তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, দেশের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম—সব রাজ্যের ক্ষেত্রেই এই সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়ায় কোনো বৈষম্য বা অন্যায় হবে না। আগের সীমানা নির্ধারণের ভিত্তিতে যে অনুপাত ছিল, সেটি বজায় রেখেই ভবিষ্যতে বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, "যদি কারও নিশ্চয়তা দরকার হয়, তবে তিনি নিশ্চয়তা দিচ্ছেন; যদি প্রতিশ্রুতি দরকার হয়, তবে প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। কারণ উদ্দেশ্য পরিষ্কার হলে শব্দ নিয়ে খেলা করার দরকার পড়ে না।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "নারী সংরক্ষণ কোনো দয়া নয়, এটি তাদের অধিকার। ২০২৩ সালে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও অল্প সময়ে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এখন ২০২৯ সালের মধ্যে এটি কার্যকর করার জন্য যথেষ্ট সময় রয়েছে। তাই আর দেরি করা উচিত নয়।"
তিনি শেষ করেন এই বলে যে, এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির মাপকাঠিতে না দেখে দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

No comments:
Post a Comment