কলকাতা, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৫৮:০২ : রাজ্যে এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। আদালত জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তির আবেদন আপিল ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করবে, তারা ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন।
আদালত আরও জানায়, বহুস্তরীয় সুরক্ষা ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে স্পষ্ট যে, যদি আপিল ট্রাইব্যুনাল কোনো আবেদন গ্রহণ করে এবং অন্তর্ভুক্তি বা বর্জন নিয়ে চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়, তবে সেই নির্দেশ পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটের আগে কার্যকর করতে হবে।
রাজ্যে প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। আদালত বলেছে, প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে যেসব ভোটারের নাম ট্রাইব্যুনাল ২১ এপ্রিলের মধ্যে অনুমোদন করবে, তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
দ্বিতীয় দফার জন্য শেষ সময় ২৭ এপ্রিল। এই সময়ের মধ্যে যাদের আবেদন মঞ্জুর হবে, তারা ভোট দিতে পারবেন। তবে যাদের আবেদন খারিজ হবে, তারা ভোট দিতে পারবেন না। অনুমোদিত ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশন আলাদা পরিপূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে, সেই তালিকা অনুযায়ী ভোটগ্রহণ হবে।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা স্থির করে দিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে আদালত বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করেছে।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ভোটের দুই দিন আগে পর্যন্ত বিচারাধীন আবেদন নিষ্পত্তি করে ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অনুমোদনপত্র দেবে। তবে শুধুমাত্র আবেদন করলেই হবে না, ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া শুরুর আগে রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। ২৮ ফেব্রুয়ারির প্রথম তালিকায় প্রায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার নাম বাদ পড়ে এবং ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ নাম বিচারাধীন রাখা হয়।
এর মধ্যে ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে, আর ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনকে যোগ্য ধরে তালিকায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৭৭ লক্ষ ২০ হাজার ৭২৮।
শুনানির সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রায় ১৬ লক্ষ আবেদন এখনও মুলতুবি রয়েছে। বিচারপতি বাগচি বলেন, উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, এই সংখ্যা প্রায় ৩৪ লক্ষ ৩৫ হাজার।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এই মামলাটি তিনিই আদালতে দায়ের করেছিলেন, তাই এই সিদ্ধান্তে তিনি অত্যন্ত খুশি।
উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে থাকা অবস্থায় কোচবিহারে এই খবর পেয়ে তিনি বলেন, “সবাইকে অভিনন্দন। দিনহাটা থেকে হেলিকপ্টারে উঠেই এই সুখবর পেলাম। শুরু থেকেই বলেছিলাম, ধৈর্য ধরতে হবে। আমি খুব খুশি, বিচারব্যবস্থার ওপর গর্ব হচ্ছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন, ট্রাইব্যুনালের কাজ শেষ হলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপ পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রথম দফার অতিরিক্ত ভোটার তালিকা ২১ এপ্রিল প্রকাশ হবে। সেই তালিকা হাতে পেলেই কর্মীদের দ্রুত ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে কেউ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।
তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ২৯ এপ্রিলের দুই দিন আগে একইভাবে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
.jpg)
No comments:
Post a Comment