'আমাকে ৫৫ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে----', বাংলায় জোড়া আক্রমণে রাহুল - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, April 26, 2026

'আমাকে ৫৫ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে----', বাংলায় জোড়া আক্রমণে রাহুল


কলকাতা: বঙ্গে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন আর তিনদিন পরেই। অন্যান্য দলের মতোই শেষ মুহূর্তে প্রচারে জোর দিয়েছে হাত শিবির। বঙ্গে একের পর এক সভা করছেন কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার সভামঞ্চ থেকেই তৃণমূল ও বিজেপিকে জোড়া আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেতা। রাহুল এদিন বলেন, বিজেপি সরকার তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করেছে কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে করেনি। তাঁর দাবী, এর কারণ হল তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে ‘সরাসরি’ লড়াই করেন না। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাঁকে টানা পাঁচ দিন ধরে ৫৫ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে উল্লেখ করে কংগ্রেস নেতার প্রশ্ন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কত ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল?” লোকসভার বিরোধী দলনেতা এও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ইডি বা সিবিআই তদন্ত করছে না।


বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার জন্য হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে একটি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন রাহুল গান্ধী। সেখানেই ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “এর কারণ হল তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করেন না।”


তিনি বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী বলেন, “আমার বাড়ি কেড়ে নেওয়া হয়, আমার লোকসভার সদস্যপদ কেড়ে নেওয়া হয়; আমার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে।” কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি বলেছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলির বিরুদ্ধে লড়তে তাঁকে প্রতি ১০-১৫ দিন অন্তর ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, গুজরাট এবং বিহারের মতো বিভিন্ন রাজ্যে সফর করতে হয়।


তিনি বলেন, "আমি জিজ্ঞাসা করতে চাই, বিজেপি সরকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কতগুলি মামলা দায়ের করেছে?" রাহুল বলেন, একমাত্র কংগ্রেস দলই আদর্শগতভাবে বিজেপির মোকাবিলা করে এবং তাঁর দাবী, মোদী তাঁকে, দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং অন্যদের ২৪ ঘন্টা আক্রমণ করেন।


প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র রাজ্য নির্বাচনের সময়ই তৃণমূল প্রধানকে আক্রমণ করেন দাবী করে তিনি বলেন, "বাংলার নির্বাচন শেষ হোক; নরেন্দ্র মোদী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলবেন না।" রাহুল গান্ধী বলেন, "মোদী জানেন যে একমাত্র কংগ্রেস দলই বিজেপি এবং আরএসএস ও তাঁদের আদর্শকে পরাজিত করতে পারে, তৃণমূল কংগ্রেস নয়।"


তিনি তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ধ্বংস এবং বেকারত্ব সৃষ্টির অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “বাংলায় চাকরি পেতে হলে তৃণমূলে কারও আত্মীয় থাকা চাই, নইলে চাকরি পাওয়া যায় না।" নিজের দলের গুন্ডা ও কর্মীদের স্বার্থে কাজ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস নেতা।


জনগণের কল্যাণে কিছুই না করে শুধু আয় বাড়ানোর জন্য মমতাকে অভিযুক্ত করে কংগ্রেস নেতা নিকটবর্তী বন্ধ হিন্দুস্তান মোটরস কারখানার দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, "একসময় বাংলা দেশের শিল্পের কেন্দ্র ছিল কিন্তু প্রথমে বামফ্রন্ট এবং তারপর তৃণমূল সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে।" রাহুল গান্ধী বলেন, তৃণমূল সরকারের আমলেই হাজার হাজার কোটি টাকার সারদা এবং রোজ ভ্যালি কেলেঙ্কারি হয়েছিল।


তিনি অভিযোগ করেন যে তৃণমূল-শাসিত রাজ্যে কয়লা পাচার ও অবৈধ খনন হয় এবং বাংলার প্রতিটি কার্যকলাপের উপর গুন্ডা ট্যাক্স লাগানো হয়। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে, দেশের অন্যান্য অংশে বিজেপি যেমন কংগ্রেস কর্মীদের ওপর অত্যাচার করে, তৃণমূলও বাংলায় ঠিক তেমনই করে।


তাঁর প্রশ্ন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ সালে পাঁচ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু কেউ কি চাকরি পেয়েছেন?" তিনি বলেন, বাংলার ৮৪ লক্ষ যুব বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। তৃণমূলের শাসনামলে নারীদের ওপর অত্যাচার বেড়েছে। এই দাবী করে কংগ্রেস নেতা ২০২৪ সালে আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেন। 


তিনি বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় বিজেপির জন্য পথ খুলে দিচ্ছেন। তিনি যদি জনগণের স্বার্থে কাজ করতেন, তাহলে বিজেপি রাজ্যে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারত না।"


অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীকে পাল্টা আক্রমণ করেছে রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র তথা মন্ত্রী ডঃ শশী পাঞ্জা বলেছেন যে, রাহুল গান্ধীর মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। নির্বাচনের সময়েও তৃণমূল নেতাদের ইডি এবং সিবিআই তলব করছে, আর তিনি তার কুকুরের সাথে খেলতে এবং বিস্কুট খাওয়ানোতে ব্যস্ত। বাংলার এবং পরবর্তীতে ভারতের জনগণই সিদ্ধান্ত নিতে দিন যে, বিজেপিকে পরাজিত করতে প্রকৃতপক্ষে কারা সক্ষম!


তিনি বলেন যে, কংগ্রেস যদি সততার সাথে লড়াই করত, তাহলে লোকসভা নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়া বিজেপি মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, দিল্লী ও বিহারের মতো রাজ্যগুলিতে জিততে পারত না।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad