কলকাতা: পাখির চোখ বিধানসভা নির্বাচন। প্রথম দফায় ভোট মিটলেও আগামী ২৯ এপ্রিল রয়েছে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। দিকে দিকে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচার। ঘাসফুল বনাম পদ্মফুলের এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাঝেই বিজেপিকে একহাত নিলেন বাংলা বিনোদন জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন রূপাঞ্জনা। কিন্তু সেই নির্বাচনে পরাজয়ের পরেই বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় তাঁর।
বিজেপি নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে অবশেষে গতবছর তৃণমূলে 'ঘর ওয়াপসি' করেছেন তিনি। আর তারপর থেকেই তীব্র কটাক্ষের শিকার হচ্ছেন অভিনেত্রী। সমাজমাধ্যমেও আপত্তিকর মন্তব্য, এমনকি ধর্ষণের হুমকিও পাচ্ছেন তিনি। এই নিয়েই এবারে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন অভিনেত্রী। প্রচারের ফাঁকে সমাজমাধ্যমে লাইভে এসে বিজেপিকে এক হাত নিয়েছেন রূপাঞ্জনা।
রূপাঞ্জনার হুঁশিয়ারি, "সাচ্চা বাঙালিকে ভয় দেখাতে আসবেন না। অভয়ার জন্য নাকি রাতদখল করেছিলেন। নির্লজ্জের মতো ধর্ষণ, নারী সুরক্ষা নিয়ে কথা বলছেন। অথচ একজন মহিলাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরণের ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছেন। অশালীন গালিগালাজ করেন। তাতেই বোঝা যাচ্ছে ক্ষমতায় এলে কী পরিণতি হবে। বিজেপির গুণ্ডা কালচার ছাড়া এটা আর কিছুই নয়। আবারও বলছি সাহস থাকলে সামনে এসে হুমকি দিন। একটা কথা শুনে রাখুন যাঁরা আমাকে আক্রমণ করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করছি। কাউকে ছেড়ে কথা বলব না। পশ্চিমবঙ্গকে কখনই উত্তরপ্রদেশ, মণিপুর বা গুজরাট হতে দেব না।”
বিজেপির ফাঁদে পা দিয়ে ফেলেছিলেন, এটা ছিল তাঁর মস্ত ভুল এবং এর জন্য তিনি আজও অনুতপ্ত, মন্তব্য রূপাঞ্জনার।
রূপাঞ্জনার অভিযোগ, যে দল নারী সুরক্ষা নিয়ে এত সরব, তারাই আজ একজন নারীকে এভাবে হেনস্থা করছে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন, "আপনারা না দাবী করেছিলেন যে রাত দখল করেছেন? অভয়া নিয়ে কথা বলেন? আর আমিও তো একজন নারী, সেখানে আমাকে এগুলো কী করে বলছেন?"
অভিনেত্রীর কথায়, "আপনারা যাঁরা এসব বলছেন, তাঁরা নিজেদের বাড়ির নারীদের কতটা সম্মান করেন? কতটা সুরক্ষিত রাখেন? এই রাজ্যটিকে কি আপনারা আরেকটি উত্তরপ্রদেশ, মণিপুর বা গুজরাট বানাতে চাইছেন? কার ক্ষমতা আছে দেখি! সামনে এসে বলুন না!" মণিপুর ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, মণিপুর না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এখানে এসে কেন সময় নষ্ট করছেন!
অভিনেত্রীর বক্তব্য, রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত সমাজমাধ্যমে কটুভাষায় আক্রমণ করা হয়। শুধু তাই নয়, রেহাই পাননি রূপাঞ্জনার বৃদ্ধা মা-ও। দীর্ঘ ২৫ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জমি শক্ত করেছেন। একজন সফল নারী হিসেবে পরিচিতি বানিয়েছেন। তাই কোনও কুরুচিকর মন্তব্য শুনতে নারাজ তিনি। আর পরিবারের ওপর এই আক্রমণ তো কিছুতেই মুখ বুঝে সহ্য করবেন না বলে কড়া হুঁশিয়ারি অভিনেত্রীর।

No comments:
Post a Comment