ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৮ এপ্রিল ২০২৬: দুই ট্রেনের ধাক্কায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এতে কম করে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক ডজন যাত্রী আহত হয়েছেন। সোমবার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার নিকটবর্তী বেকাসি তিমুর স্টেশনে ঘটেছে এই দুর্ঘটনা। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেনের বগিগুলোতে বহু যাত্রী আটকা পড়েছেন। ঘটনাস্থলে থাকা উদ্ধারকারী দলগুলো উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। সরকারি মালিকানাধীন রেল কোম্পানি এই দুর্ঘটনার জন্য গ্রাহকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে।
সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, আরগো ব্রোমো আংগ্রেক নামের একটি দূরপাল্লার ট্রেন স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কমিউটার ট্রেনকে পেছন দিক থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, বহু যাত্রী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। সরকারি মালিকানাধীন রেল কোম্পানি পিটি কেরেতা আপি ইন্দোনেশিয়া নিশ্চিত করেছে যে, ৩৮ জন আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বগিটি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল এবং হয়রানি রোধে এটি আলাদা রাখা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই দুর্ঘটনার ফলে স্টেশনে বিশৃঙ্খলা ও চিৎকারের সৃষ্টি হয়। উদ্ধারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত বগিটিতে আটকে পড়া পাঁচজন যাত্রীর কাছে পৌঁছানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। সৌভাগ্যবশত, আর্গো ব্রোমো আংরেক ট্রেনের ২৪০ জন যাত্রীই নিরাপদে আছেন।
জাকার্তা পুলিশ প্রধান আসিফ এডি সুহেরি বলেছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি মালিকানাধীন রেল কোম্পানিটি এই দুর্ঘটনার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্টেশনে বিচলিত যাত্রীদের ভিড় এবং প্রিয়জনদের সন্ধান করতে দেখা গেছে।
ইন্দোনেশিয়ার পুরোনো রেল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার কারণে অতীতেও এ ধরণের দুর্ঘটনা ঘটেছে। ইন্দোনেশিয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা সাধারণ। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পশ্চিম জাভায় দুটি ট্রেনের ধাক্কায় চারজনের মৃত্যু হয়। ২০১০ সালে মধ্য জাভায় একটি ট্রেন পেছন থেকে আরেকটি ট্রেনকে ধাক্কা দিলে ৩৬ জন প্রাণ হারান। ২০১৩ সালের অক্টোবরে একটি অরক্ষিত ক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে মিনিবাসের ধাক্কায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়। এই রেল দুর্ঘটনাটি আবারও রেল নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

No comments:
Post a Comment