কলকাতা: পুর নিয়োেগ দুর্নীতি মামলায় শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। ইডির তলবে সাড়া দিয়ে সোমবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন তিনি। প্রায় সাড়ে ১০ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ১ মে সুজিত তদন্তকারীদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেবার সিজিও কমপ্লেক্সে প্রায় ৯ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল তাঁকে। জিজ্ঞাসাবাদের পর আরও কিছু নতুন তথ্য-সহ তাঁকে তলব করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তদন্তকারীরা।
ভোট চলাকালীন সুজিত বসুকে একাধিকবার তলব করেছিল ইডি। কিন্তু প্রচার ও নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তখন তিনি হাজিরা এড়িয়েছিলেন। পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে তিনি তদন্তে সহযোগিতা করতে শুরু করেন। এদিনও আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে নির্ধারিত সময়েই সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছে যান তিনি।
এই মামলার তদন্তে এর আগেও সুজিত বসুর বাড়ি ও অফিসে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। বাদ যায়নি তাঁর মালিকানাধীন ধাবাও। শুধু সুজিত নন, তাঁর পুত্র সমুদ্র বসু এবং পরিবারের অন্য সদস্যদেরও ডেকে পাঠিয়ে বয়ান সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবী, নিয়োগ সংক্রান্ত নথিপত্র ও ডিজিটাল লেনদেনের বিষয়ে সুজিত বসুর কাছ থেকে আরও কিছু তথ্য জানা প্রয়োজন।
বার বার তলবের মুখে সুজিত বসু বরাবরই দাবী করে এসেছেন যে, তিনি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর যুক্তি, সিবিআই এই মামলায় যে চার্জশিট জমা দিয়েছে, সেখানে তাঁর নাম নেই। তবে ইডি-র দাবী, আর্থিক তছরূপের দিকটি খতিয়ে দেখতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত জরুরি। আর ভোটের ফলপ্রকাশের পর প্রথমবার এদিন ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার আগে আর কিছুই বলেননি প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী। এমনকি সংবাদমাধ্যমকেও এড়িয়ে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইডির জাল কেটে বেরোতে পারলেন না তিনি। রাতে কেন্দ্রীয় সংস্থাটির তরফে জানানো হয়, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা সুজিত বসুকে গ্রেফতারের কথা। তদন্তের অসহযোগিতার অভিযোগেই এই গ্রেফতার।
ইডির একটি সূত্রের খবর, সোমবার রাতেই সুজিতের শারীরিক পরীক্ষা হবে। তার পরে রাখা হবে হেফাজতে। ইডি রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রীকে আদালতে তুলবে মঙ্গলবার সকালে।

No comments:
Post a Comment