কলকাতা: মেসি কাণ্ডে শেষমেষ হাজিরা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের। ইতিমধ্যে তিনবার হাজিরা এড়িয়েছেন অরূপ। তাঁর গ্রেফতারি নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে শেষমেষ বৃহস্পতিবার সকালে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিলেন অরূপ বিশ্বাস। থানার বাইরে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মেসি কাণ্ডে পরপর তিনবার নোটিশ দেওয়া হয় প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে। কিন্তু হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এর আগে পুলিশি জেরা এড়াতে কলকাতা হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। তবে হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দেন, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ থেকে প্রাক্তন মন্ত্রী কোনওভাবেই পালিয়ে বেড়াতে পারেন না। পুলিশ ডাকলে নির্দিষ্ট দিনে তাঁকে থানায় উপস্থিত হতেই হবে। একই সঙ্গে আদালতের পক্ষ থেকে এই তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর কোনও রকম স্থগিতাদেশ দিতেও অস্বীকার করা হয়।
তবে, গত ৮ জুন কিছু শর্তসাপেক্ষে আগামী ১৭আগস্ট পর্যন্ত অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ না করার জন্যও পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মেসির 'গোট ট্যুর'-এর অংশ হিসেবে গত বছর কলকাতায় এসেছিলেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। কিন্তু যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে দর্শকদের সামলানোর ক্ষেত্রে চরম অব্যবস্থা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। মেসিকে দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ দর্শকরা মাঠে প্লাস্টিকের বোতল ছোঁড়েন, ভাঙচুর চলে এবং নিরাপত্তা কর্মীরা তড়িঘড়ি মেসিকে মাঠ থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। এই ঘটনার পর, গত ১৭মে মেসির এই সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত বিধাননগর দক্ষিণ থানায় প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-র একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, এই মেগা ইভেন্টের টিকিট কালোবাজারি, তোলাবাজি, অপরাধমূলক হুমকি এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম গাফিলতি হয়েছিল। পুরোটাই হয়েছিল অরূপ বিশ্বাসের প্রত্যক্ষ মদতে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রথমে অরূপ বিশ্বাসকে ৫ জুনের মধ্যে থানায় হাজির হতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অসুস্থতার অজুহাত দিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি। পাশাপাশি পরবর্তী দুই সপ্তাহ আসতে পারবেন না বলেও জানিয়ে দেন। এরপর তাঁর বাড়ির দরজায় নোটিশ সেঁটে গত ৮ জুন সকাল ১১টায় তাঁকে ফের তলব করে পুলিশ। কারণ, আগের অসুস্থতার সপক্ষে কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট তিনি জমা দেননি। কিন্তু ৮ জুনের সমনেও তিনি সশরীরে হাজির হননি এবং পুলিশের সঙ্গে কোনও যোগাযোগও করেননি।
এরই মধ্যে বারাসত আদালতে অরূপ বিশ্বাসের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। পরে তিনি হাইকোর্টে গেলে আদালত নির্দেশ দেয়, প্রাক্তন মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে হলে অন্তত ৪৮ ঘন্টা আগে নোটিশ দিতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই অরূপকে ৪৮ ঘন্টার সময়সীমা বেঁধে দেয় বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ।
কিন্তু তৃতীয় নোটিশেও হাজিরা দেননি প্রাক্তন মন্ত্রী। একপ্রকার নিখোঁজ ছিলেন তিনি। ফলত এমতাবস্থায় গ্ৰেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে তাঁর বিরুদ্ধে, এই আশঙ্কা ছিলই। শেষমেশ বৃহস্পতিবার সকালে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় পৌঁছলেন অরূপ। বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১০ টা নাগাদ তিনি থানায় পৌঁছন। তবে এদিন যে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী হাজিরা দিতে পারেন, সেই ইঙ্গিত বুধবার রাতেই শতদ্রু দত্ত দিতেছিলেন তাঁর সমাজমাধ্যমে। সেই মতো সকাল থেকেই থানার সামনে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তদন্তের মুখোমুখি হলেন অরূপ বিশ্বাস। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিন একজন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় আসেন প্রাক্তন মন্ত্রী। যদিও জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁকে ভেতরে থাকার অনুমতি দেননি তদন্তকারীরা।

No comments:
Post a Comment